রাজশাহীতে ছাত্রীদের জন্য স্কুল টয়লেট

Send
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩:৩৯, জুলাই ০৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৫১, জুলাই ০৭, ২০১৯

রাজশাহীর পবা উপজেলার টিকর উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য লিঙ্গ সংবেদনশীল স্কুল টয়লেট চালু করা হয়েছে। রবিবার জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক এর উদ্বোধন করেন। এটি নির্মাণে মূল উদ্দেশ্য পিরিয়ডকালীন সময়ে স্কুলে ছাত্রীদের উপস্থিতির হার বাড়ানো। এই উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ ও ওয়ার্ল্ড ভিশন তাইওয়ান।

প্রায় এক কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে পবা ও তানোর উপজেলার ২৪টি বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য পৃথক টয়লেট নির্মাণ করেছে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ ও ওয়ার্ল্ড ভিশন তাইওয়ান। এর সুফল পাচ্ছে সাড়ে ছয় হাজার ছাত্রী।

টিকর উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের পৃথক টয়লেট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক। তিনি বলেন, সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ছাত্রীদের শিক্ষার উন্নয়নে অনেক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। কিন্তু মেয়েদের পর্যাপ্ত টয়লেট না থাকায় অনেকে স্কুল থেকে ঝরে পড়ছে। মাসিকের সময় লজ্জায় অনেকে স্কুলে যেতে পারে না। এই জটিল মনোদৌহিক পরিবর্তনের সময়ে অভিভাবক ও শিক্ষকরা তাদের যত্ন নিতে হবে। বর্তমান সরকার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এ বিষয়ে খুবই গুরুত্ব সহকারে কাজ করছে।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রিজিওনাল ফিল্ড ডিরেক্টর অঞ্জলি জাসিন্তা কস্তা বলেন, বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৫ সালের তথ্য অনুযায়ী ৪৫ দশমিক ৯২ শতাংশ বালিকা মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করার আগেই ঝরে পড়ে, যা খুবই ভীতিকর। বাংলাদেশে স্কুলের শিক্ষা ব্যবস্থায় মেয়েদের মাসিকের বিষয়টি প্রকাশ পাওয়া একটি ভয়ের বা লজ্জার ব্যপার। ৪০ ভাগ ছাত্রী মাসে গড়ে তিনদিন মাসিকের সময় স্কুলে উপস্থিত থাকে না। এতে তাদের সার্বিক শিক্ষার মূল্যায়নে প্রভাব পড়ে। স্কুলগুলোতে মাসিককালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা অপ্রতুল। মাত্র তিন ভাগ স্কুলে মেয়েদের জন্য টয়লেটে মাসিকের সময় ব্যবহৃত সামগ্রী রাখার ক্যান/বিন আছে। ৫৩ ভাগ ছাত্রীর ব্যবহৃত স্কুল টয়লেটগুলোতে পর্যাপ্ত গোপনীয়তা নেই। ৩০ ভাগ মেয়ে তাদের বাড়িতেও একই সমস্যার মুখে পড়ে।

তিনি বলেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ সরকারের ভিশন ২০৪১ এবং সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পূরণের জন্য উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। ছাত্রীরা এই টয়লেটগুলোতে অত্যন্ত গোপনীয়তাসহ মাসিককালীন যত্নে প্রয়োজনীয় সুবিধা পাবে। বালিকাদের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গঠনে ওয়ার্ল্ড ভিশন সবসময় অনুঘটকের ভূমিকায় সরকারের পাশে থাকবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ নেওয়াজ। উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ, ওয়ার্ল্ড ভিশনের রাজশাহী এরিয়া প্রোগ্রাম ক্লাস্টার ম্যানেজার লিটন মন্ডল এবং দামকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুস্ সালাম।

/এমপি/

লাইভ

টপ