প্রবল বর্ষণ রাঙামাটির ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে ভারী যান চলাচল বন্ধে অনুরোধ

Send
রাঙামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১:৫২, জুলাই ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:০০, জুলাই ১২, ২০১৯

পানির স্রোতে সড়ক ধসে যাওয়ার আশঙ্কাগত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে রাঙামাটির প্রধান সড়কগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ কারণে জেলার সড়কগুলোতে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধে অনুরোধ জানিয়েছে সড়ক বিভাগ। বৃহস্পতিবার এক চিঠিতে রাঙামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল এই অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে সব সড়কেই ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ হলেও রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে বাস চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, ‘গত ৬ জুলাই থেকে প্রবল বর্ষণে রাঙামাটি সড়ক বিভাগের বিভিন্ন সড়ক, বিশেষ করে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়ক, রাঙামাটি-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়ক ও ঘাগড়া-চন্দ্রঘোনা-বাঙ্গালহালিয়া সড়কের বিভিন্ন অংশ বর্তমানে ভারী যান চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সড়ক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ের লোকজন সড়ক মেরামতের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। তবে সড়কগুলো মেরামত করে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এসব সড়কে ভারী যান চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।’
সড়ক সংলগ্ন পাহাড় ধসের আশঙ্কারাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ বলেন, ‘প্রবল বর্ষণে সড়কের বিপর্যয় এড়াতে সড়ক বিভাগ থেকে ভারী যান চলাচল বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। আপাতত সব সড়কে ট্রাক ও বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে বাস চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।’
এ বিষয়ে রাঙামাটি বাস মালিক সমিতির সভাপতি মাঈনুদ্দীন সেলিম বলেন, ‘চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়ক ও নানিয়ারচর সড়কে আপাতত ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখছি। রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে শুধুমাত্র ট্রাক বন্ধ রাখা হচ্ছে। যাত্রীদের প্রয়োজনের কথা চিন্তা করে বাস চালু রাখা হয়েছে। বান্দরবান সড়কে আগে থেকেই গাড়ি চলাচল বন্ধ আছে।’
টানা বর্ষণে যেকোনও সময় ধসে যেতে পারে সড়ক প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১৩ জুন রাঙামাটিতে প্রবল বর্ষণে ব্যাপক পাহাড় ধস হয়। এ সময় রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের শালবন নামক স্থানে সড়ক ধসে যায়। প্রায় ৯ দিন পর বিকল্প সড়ক তৈরি করে হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য সড়কটি খুলে দেওয়া হয়। তার প্রায় তিন মাস পর একটি ব্রিজ তৈরি করে ভারী যানবাহনের জন্য সড়কটি খুলে দেওয়া হয়। ব্যাপক পাহাড় ধসের পর সে সময় সড়ক বিভাগ সড়কের মাটি ধরে রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু গত দুই বছরেও স্থায়ী কোনও কাজ শুরু না হওয়ায় গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সড়কগুলো আবারও ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

/ওআর/

লাইভ

টপ