বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০

Send
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৭:৪৯, জুলাই ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৩১, জুলাই ১২, ২০১৯





জীবিত উদ্ধার করে জুয়েলকে তীরে আনা হয়কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে একের পর এক মৃতদেহ ভেসে আসছে। শুক্রবার (১২ জুলাই) দুপুরে কলাতলী ভেলি হ্যাচারি সাগর পয়েন্ট থেকে আরও একটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এনিয়ে গত তিন দিনে ১০ জেলের মৃতদেহ উদ্ধার করা হলো। এর আগে বুধবার ছয় জন ও বৃহস্পতিবার তিন জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিন খন্দকার জানিয়েছেন, দুপুরে কক্সবাজার শহরের ভেলি হ্যাচারি সমুদ্র পয়েন্ট থেকে এক জেলের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে বুধবার (১০ জুলাই) সকালে শহরের সি-গাল সমুদ্র পয়েন্ট থেকে ছয় জন এবং বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) রাত ১০টার দিকে শহরের সমিতিপাড়া, মহেশখালীর হোয়ানক ও রামুর হিমছড়ি সমুদ্র পয়েন্ট থেকে তিন জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
ওই ঘটনায় ভোলা জেলার চরফ্যাশন এলাকার ওয়াজেদ উদ্দিনের ছেলে জুয়েল (১৭) ও মকবুল আহমদের ছেলে মোহাম্মদ মনিরকে (৩৮) জীবিত উদ্ধার করা হয়। তারা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে স্বজনদের মাধ্যমে বাড়ি ফিরে গেছেন।
জীবিত উদ্ধার মনির বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গত ৪ জুলাই (বৃহস্পতিবার) ভোলা চরফ্যাশনের শামরাজ ঘাট থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে ট্রলার নিয়ে তিনি সাগরে যান। তারা মোট ১৪ জন ওই ট্রলারে ছিলেন। গত ৬ জুলাই (শনিবার) ভোরে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি থেকে ছিটকে পড়েন তারা। পরে ট্রলারটিও উল্টে যায়। এরপর কে কোথায় হারিয়ে গেছে তা জানা যায়নি। কিন্তু ট্রলার ধরে রাখেন অনেকে। ঢেউয়ের ধাক্কায় ট্রলারটি বারবার উল্টে যায়। তবুও তারা ট্রলার ধরে রাখার চেষ্টা করেন। ঢেউয়ের ধাক্কায় ট্রলার থেকে ছিটকে পড়ে আবার ধরেন। তবে এই সময় প্লাস্টিকের বেশ কয়েকটি পানির বোতল ড্রামের সঙ্গে বেঁধে ফেলেন তারা। দুই-একটি বোতলে পানি রেখে বাকি সব বোতলের পানি ফেলে দেন। এতদিন ওই পানি খেয়ে বেঁচে ছিলেন তারা।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘সাগরে ভেসে আসা ১০ জেলের মধ্যে সাত জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন– ভোলার চরফ্যাশনের পূর্ব মাদ্রাসা এলাকার তরিফ মাঝির ছেলে কামাল হোসেন (৩৫), চরফ্যাশনের উত্তর মাদ্রাসা এলাকার নুরু মাঝির ছেলে অলি উল্লাহ (৪০), একই এলাকার ফজু হাওলাদারের ছেলে অজি উল্লাহ (৩৫), মৃত আবদুল হকের ছেলে মো. মাসুদ (৩৮), শহিদুল ইসলামের ছেলে বাবুল মিয়া (৩০) ও নজিব ইসলামের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩৬), চরফ্যাশনের রসুলপুর এলাকার আসমান পাটোয়ারীর ছেলে শামসুদ্দিন পাটোয়ারী (৪৫)। অপর দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে পড়া ট্রলারটির মালিকের নাম ওয়াজেদ উদ্দিন ওরফে পিটার। তিনি কক্সবাজারে আসার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই (বৃহস্পতিবার) ভোলা চরফ্যাশনের শামরাজ ঘাট থেকে মাছ ধরার উদ্দেশে একটি ট্রলার সাগরে পাড়ি দেয়। তাতে মোট ১৪ জন জেলে ছিলেন। ৬ জুলাই (শনিবার) ভোরে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি থেকে ছিটকে পড়েন জেলেরা। পরে ট্রলারটি উল্টে যায়। এরপর সব জেলে নিখোঁজ হন।

/আইএ/

লাইভ

টপ