শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

Send
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২২:১৯, জুলাই ১৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৩০, জুলাই ১৫, ২০১৯

নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে লোকালয়ে ঢুকতে শুরু করেছেগত এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে শেরপুর জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। রবিবার (১৪ জুলাই) রাতের অতি ভারী বর্ষণে শেরপুর সদর, ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও নকলা উপজেলার কমপক্ষে ৬০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।  বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পানিবন্দি মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। বন্যার পানিতে ডুবে গত তিন দিনে শ্রীবরদীতে দুজন ও ঝিনাইগাতীতে এক শিশুসহ তিনজন মারা গেছে।

বন্যার পানি পানি প্রবেশ করায় ঝিনাইগাতী ও শেরপুর সদর উপজেলার ৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে শেরপুর, নকলা ও নালিতাবাড়ী পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।

পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বৃদ্ধির ফলে শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষিমারী ইউনিয়নের বেপারীপাড়া সংলগ্ন চরের ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছ। এখানকার ৫০টি পরিবার বেপারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে।

শেরপুর সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আকরাম হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গাজীর খামার ও ধলা ইউনিয়নের চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি ওঠায় এবং চরপক্ষিমারি ইউনিয়নের বেপারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যার্তরা আশ্রয় নেওয়ায় এসব বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’

ঝিনাইগাতী উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের ৪০ গ্রামের অন্তত ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। পাহাড়ি ঢলের তোড়ে সোমবার (১৫ জুলাই ) দুপুরে মহরশি নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কিছু অংশে ভাঙন দেখা দেয়। স্থানীয় লোকজন ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা চালায়। ঝিনাইগাতী উপজেলা চেয়ারম্যান এসএমএ ওয়ারেজ নাইম ভাঙন ও বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

ঝিনাইগাতীর সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুন্নবী বলেন, ‘পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার কারণে উপজেলার ৩৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’

নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালি নদীর পানি বিপদসীমার ১৬৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল ও মরিচপুরান ইউনিয়নের আটটি গ্রামে নতুন করে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করেছে। ভোগাই নদীর তীরবর্তী বাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে রয়েছে এলাকাবাসী। এদিকে, নালিতাবাড়ী পৌরশহরের গড়কান্দা এলাকায় চেল্লাখালী নদীর পানি বেড়ে কয়েকটি গ্রামে ঢুকতে শুরু করেছে।

মরিচপুরান ইউনিয়নের বাসিন্দা বাবুল মিয়া বলেন, ‘আমাদের এ ইউনিয়নে শনিবার (১৩ জুলাই)  দুপুর থেকে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এতে আমরা খুবই চিন্তিত রয়েছি।’

অন্যদিকে নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্রের শাখা মৃগী নদীর পানির তীব্র স্রোতে ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু বাড়ি ও আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। নদীভাঙনে ওই এলাকার বাড়ি-ঘর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চিকারবাড়ী ঘাট সংলগ্ন ২০ ফুট পাকা রাস্তার নিচের মাটি সরে যাওয়ায় এলাকাবাসী ওই সড়কে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। 

এছাড়া ঢলের পানিতে উপজেলার গণপদ্দী, নকলা, উরফা ও গৌড়দ্বার ইউনিয়নের অনেক ফসলি জমি ও আমনচারা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদুর রহমান ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে জানান, ভারী বর্ষণে নদীতে পানির তীব্র স্রোতের কারণে নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের হাত থেকে সতর্ক থাকার জন্য এলাকাবাসীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভাঙনের বিষয়ে পানি বোর্ডের উন্নয়ন কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মাজহারুল ইসলাম জানান, রবিবার সকাল থেকে ভাঙন রোধে নদীতে বালুর বস্তা ফেলা শুরু হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

/এমএএ/

লাইভ

টপ