নুসরাতকে যৌন হয়রানির মামলায় অভিযোগ গঠনের দিন পেছালো

Send
ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:০০, জুলাই ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০৪, জুলাই ১৭, ২০১৯

নুসরাত জাহান রাফি

পুড়িয়ে হত্যার শিকার ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানি মামলার অভিযোগ গঠনের দিন পিছিয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনে বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুরে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ অভিযোগ গঠনের দিন পেছান।

বাদীপক্ষের আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু জানান, আজ বুধবার (১৭ জুলাই) আদালতে অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনে আদালত অভিযোগ গঠনের জন্য নতুন দিন ৫ আগস্ট ধার্য করেন। এসময় মামলার একমাত্র আসামি সিরাজ উদদৌলা আদালতে উপস্থিত ছিল।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আরও জানান, এর আগে ৩ জুলাই বিকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. শাহ আলম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। বিচারক মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করেন।

এম শাহজাহান সাজু জানান, যৌন হয়রানির মামলাটি করার পর নুসরাত ফেনীর বিচারিক হাকিম আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। সেই জবানবন্দি থেকে জানা যায়, ২৭ মার্চ বেলা পৌনে ১১টার দিকে মাদ্রাসার পিয়ন নুরুল আমিনকে দিয়ে নুসরাতকে অধ্যক্ষের অফিস কক্ষে ডেকে পাঠানো হয়। তার সঙ্গে তার দুই বান্ধবী নাসরিন সুলতানা ও নিশাত সুলতানাও অধ্যক্ষের কক্ষের সামনে যায়। এসময় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা নুসরাতের দুই বান্ধবীকে ভেতরে ঢুকতে দেননি। নুসরাত একাই অধ্যক্ষের কক্ষে ঢুকেন। এসময় নুসরাতের গায়ে হাত দেওয়াসহ তাকে যৌন হয়রানি করেন অধ্যক্ষ সিরাজ। একপর্যায়ে নুসরাত কাঁদতে কাঁদতে অধ্যক্ষের রুম থেকে বের হয়ে ক্লাসে ফিরে যান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ‘এই মামলায় দুই ম্যাজিস্ট্রেটসহ ২৯ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার যোগসূত্র থাকায় নুসরাতের দুই বান্ধবী নাসরিন সুলতানা ও নিশাত সুলতানা, মাদ্রাসার পিয়ন নুরুল আমিন ও নাইটগার্ড মো. মোস্তফার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হবে। এ ছাড়া, হত্যা মামলায় সিরাজ উদ-দৌলা, শাহাদাত হোসেন শামীম ও নূর উদ্দিনের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি, মৃত্যুর আগে নুসরাতের দেওয়া জবানবন্দিসহ আরও কিছু তথ্যও এ মামলায় ব্যবহার করা হবে।’

নিহত নুসরাত সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে তিনি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পরে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এসময় তাকে কৌশলে পাশের বহুতল ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান।

নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে গত ৮ এপ্রিল ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ১০ এপ্রিল মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়।

 

/এমএ/

লাইভ

টপ