বগুড়ায় যমুনার পানি বিপদসীমার ১১৮ সেন্টিমিটার ওপরে

Send
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৬:৫০, জুলাই ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৫১, জুলাই ১৮, ২০১৯

পাকা রাস্তার ওপর পানি

বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ১১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় এই পানি পরিমাপ করা হয়। নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

জানা গেছে, বুধবার তিন উপজেলায় নতুন করে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় দুই হাজার পরিবার। সবমিলিয়ে বন্যা দুর্গত হয়ে পড়েছেন ৮০ হাজারের বেশি মানুষ। সারিয়াকান্দির চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। এসব এলাকার মানুষ গবাদিপশু, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছেন। কেউ কেউ বাড়িতে বাঁশের মাচা তৈরি করে তার ওপর রয়েছেন। গবাদিপশুগুলো উুঁচ স্থানে রাখা হয়েছে। এসব এলাকায় গো-খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

ধুনটে যমুনা নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে শহরাবাড়ির পাকা সড়ক ধসে গেছে। প্রায় ছয় কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

বগুড়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘যমুনা নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় গত সোমবার থেকে উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ি ইউনিয়নের শিমুলবাড়ি থেকে সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার সীমানা পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কৈয়াগাড়ি এলকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কয়েকটি স্থানে ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি চুয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করলে বালুর বস্তা দিয়ে ঠেকানো হয়েছে।’

ধুনট ভাণ্ডারবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিকুল করিম আপেল বলেন, ‘বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষা করা না গেলে ধুনট উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ি, গোশাইবাড়ি, চিকাশী, নিমগাছি, এলাঙ্গী, কালেরপাড়াসহ ১০টি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা বন্যায় প্লাবিত হওয়ার আশংকা রয়েছে।’

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ১১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে বাঙালি নদীর পানি বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার নিচে আছে।

বগুড়া জেলা প্রশাসকের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা সূত্রে জানা গেছে, তিন উপজেলায় বন্যা কবলিত হয়েছে প্রায় ১০২টি গ্রামের প্রায় ৮২ হাজার মানুষ। বন্ধ রয়েছে মোট ৬৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পানি বিশুদ্ধ করতে সাত হাজার ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে।

 

 

/এএইচ/

লাইভ

টপ