বৃষ্টিতে ছাতা মাথায় আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রীরা

Send
বিজয় রায় খোকা, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশিত : ১০:৪৪, জুলাই ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৪, জুলাই ১৮, ২০১৯

কিশোগঞ্জে আন্তঃনগর ট্রেনের ভেতর ছাতা নিয়ে ভ্রমণ করতে হয় যাত্রীদের

ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটে চলাচল করা তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনেরই বেহাল অবস্থা বলে যাত্রীদের অভিযোগ। ট্রেনগুলোর অবস্থা এতোই খারাপ যে বৃষ্টি হলে যাত্রীদের বগির ভেতরই ছাতা মাথায় দিয়ে ভ্রমণ করতে হয়। যাদের সঙ্গে ছাতা থাকে না, তাদের কাকভেজা হয়ে ভ্রমণ করতে হয় বলে যাত্রীরা জানান। এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, যাত্রীরা প্রায়ই আমার কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন। আমি বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

ঢাকা-কিশোরগঞ্জে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেন তিনটি হলো, এগারসিন্দুর প্রভাতি, এগারসিন্দুর গোধূলি এবং কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস।

এ নিয়ে গত কয়েকদিন ফেসবুকেও অনেক যাত্রী তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। কিশোরগঞ্জ বিচিত্রা নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে আজাদ আবুল কায়েস নামে একজন গত সোমবার (১৫ জুলাই) ছাতা মাথায় ট্রেনের আসনে বসা যাত্রীদের তিনটি ছবি পোস্ট দিয়ে লেখেন, আজকের এগারসিন্দুর প্রভাতি। তারপর থেকে ছবিগুলো ফেসবুক ওয়ালে ভাইরাল হতে থাকে।

সরেজমিন ট্রেনের নিয়মিত কয়েক যাত্রীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, ট্রেনগুলোর অবস্থা লোকাল ট্রেনের চেয়েও খারাপ। বৃষ্টির সময় ভ্রমণ করলে সঙ্গে ছাতা নিতে হয়। কারণ ট্রেনগুলোর ছাদে অসংখ্য ফুটো। ট্রেনে উঠে নির্ধারিত আসনে বসার পর বৃষ্টি শুরু হলে ছাতা থাকলে কিছুটা রক্ষা পাওয়া যায়। আর যাদের ছাতা থাকে না, তাদের এ পাঁচ ঘণ্টা ভিজে ভ্রমণ করতে হয়। এ কারণে আমরা যারা নিয়মিত যাতায়াত করি, তারা ছাতা নিয়েই ট্রেনে উঠি। সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েন যারা শিশুদের নিয়ে ওঠেন।

গত সোমবার (১৫ জুলাই) এগারসিন্দুর প্রভাতির এক যাত্রী জানান, বৃষ্টির মধ্যে জরুরি কাজে তাকে ঢাকা যেতে হয়েছে। ট্রেন ছাড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভেতরে বৃষ্টি পড়তে শুরু করে। প্রতিটি বগির ছাদে অসংখ্য ফুটো। যারা আগেও এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন তারা ছাতা মেলে সিটে বসে ছিলেন। ছাতা না থাকায় তিনি কাকভেজা হয়ে ঢাকা পৌঁছেন।

গত বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচের যাত্রী ছিলেন সদর উপজেলার বিন্নাটির হুমায়ুন কবীর।

তিনি জানান, সকাল সাড়ে দশটার দিকে তিনি কমলাপুর থেকে এ ট্রেনে করে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা করেন। হঠাৎ করে ছাদের ফুটোগুলো দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বেশির ভাগ আসন ভিজে যায়। অধিকাংশ যাত্রী বাধ্য হয়ে আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে এতটা পথ ভ্রমণ করেন।

তিনি বলেন, ‘এত নিম্নমানের ট্রেন ঢাকা-কিশোরগঞ্জ ছাড়া আর কোথাও আছে বলে আমার মনে হয় না।’

রেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ ঢাকা রেলপথে যে তিনটি আন্তঃনগর ট্রেন যাতায়াত করে, সেগুলো আন্তঃনগর হলেও তিনটি ট্রেনই সি ক্যাটাগরির। পুরনো ইঞ্জিন দিয়ে ট্রেনগুলো ধুঁকে ধুঁকে চলছে। এই রুটে একটিও উন্নতমানের ট্রেন নেই। প্রায়ই ইঞ্জিন বিকল হয়ে ট্রেনগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথে আটকে থাকে।

কিশোরগঞ্জের রেল যোগাযোগে কয়েক দফা দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে কিশোরগঞ্জ সম্মিলিত নাগরিক ফোরাম নামে একটি সংগঠন। তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীতকরণ, ভৈরবে বাইপাস লাইন নির্মাণসহ আরও একটি প্রথম শ্রেণির আন্তঃনগর ট্রেনের দাবিতে রেল অবরোধ পর্যন্ত করেছে সংগঠনটি।

কিশোরগঞ্জ সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের প্রধান সমন্বয়ক এনায়েত করিম অমি জানান, কিশোরগঞ্জের রেলের এ ভয়াবহ অবস্থা দূর করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছি। কিন্তু কিছুতেই যেন রেল কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙছে না। এ জেলায় রেল দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। পুরনো ও বাতিল ইঞ্জিন আর বগি দিয়ে চালানো হচ্ছে এ জেলার আন্তঃনগর ট্রেন। পয়সা দিয়ে টিকিট কেটে যাত্রীদের এখন ট্রেনের ভেতর বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য ছাতা মাথায় দিয়ে বসতে হচ্ছে। কিশোরগঞ্জবাসী এসব দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চায়। দ্রুত আমাদের পাঁচ দফা দাবি না মানলে কিশোরগঞ্জবাসী রাস্তায় নেমে আসবে।

কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন ভোগান্তি নিয়ে যাত্রীরা প্রায়ই আমাদের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। ট্রেনের মান উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে রেলওয়ের যান্ত্রিক বিভাগ। আমরা সমস্যাগুলো কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে। 

/জেবি/এমএমজে/

লাইভ

টপ