হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা মিন্নি স্বীকার করেছেন, দাবি এসপি’র

Send
বরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৪:৩৭, জুলাই ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫১, জুলাই ১৮, ২০১৯

সংবাদ সম্মেলনে বরগুনার পুলিশ সুপারবরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন দাবি করেছেন, রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন ভিকটিমের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি।  রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেফতারের আগে জিজ্ঞাসাবাদে মিন্নি এই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিজের কার্যালয়ে পুলিশ সুপার এসব কথা বলেন।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘যারা হত্যাকারী ছিল তাদের সঙ্গে মিন্নি শুরু থেকেই যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় অংশ নেন। এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হওয়ার আগে এর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যা যা করা দরকার, তার সবকিছুই তিনি করেছেন। হত্যাকারীদের সঙ্গে হত্যা পরিকল্পনার মিটিংও করেছেন।’ 

আদালতে ১০ আসামি স্বীকারোক্তিতে মিন্নির জড়িত থাকার কথা উঠে এসেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে এসপি বলেন, ‘আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বিষয়ে আমি কোনও কথা বলতে চাই না। তবে একটা বিষয় বলতে চাই, একাধিক আসামি আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মিন্নির জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।’

পুলিশ সুপার বলেন, ‘মিন্নি আমাদের কাছে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। আমাদের কাছেও প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে, মিন্নি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। মিন্নি স্বীকার করেছেন বলেই আমরা বিষয়গুলো আদালতের কাছে তুলে ধরে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য রিমান্ড আবেদন করেছি এবং আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘এই মামলার বাদী যাদের হত্যাকারী দাবি করেছেন, আমরা কিন্তু রাতদিন জেগে থেকে তাদের অনেককে গ্রেফতার করেছি। বাকিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’

কোনও চাপ নেই দাবি এসপির

রিফাতের বাবার সংবাদ সম্মেলনের পরই মিন্নিকে গ্রেফতার করা হলো, এর সঙ্গে পুলিশের কোনও যোগসাজশ আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, ‘যোগসূত্র থাকা বা না থাকার বিষয়টির আসলে আইনের কাছে গুরুত্ব নেই। তদন্ত স্বচ্ছ এবং সাবলীল প্রক্রিয়া মাত্র। তদন্তের ক্ষেত্রে যে যে বিষয়গুলো সামনে আসে, আমরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সঙ্গে সেইসব বিষয় নিয়েই কাজ করেছি। শুধু আমি না, আপনারাও দেখেছেন ডিআইজি মহোদয়ও বেশ কিছু দিন এখানে অবস্থান করেছিলেন। প্রেস কনফারেন্স ও মানববন্ধন যা আমাদের তদন্তের সঙ্গে সংঘর্ষিক সে বিষয়গুলোকে বাদ দিয়ে আমরা আমাদের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের ওপর কোনও রাজনৈতিক চাপ নেই বা অন্য কোনও মহলেরও চাপ নেই।’ 

উল্লেখ্য, রিফাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত মিন্নিসহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ২ জুলাই ভোরে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এখন পর্যন্ত ১০ আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। গুরুতর আহত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুন− 

মিন্নির পক্ষে দাঁড়াননি কোনও আইনজীবী

আদালতে স্বামীর খুনিদের ফাঁসি চাইলেন মিন্নি

মিন্নির রিমান্ড আবেদনে যেসব যুক্তি দেখিয়েছে পুলিশ

 
/এফএস/এমএমজে/

লাইভ

টপ