স্বৈরাচার এরশাদকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিয়েছে সরকার: মির্জা ফখরুল

Send
বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:০০, জুলাই ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৪৮, জুলাই ১৮, ২০১৯

বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল (ছবি– প্রতিনিধি)

গণতন্ত্র হত্যাকারী ‘স্বৈরাচার এরশাদ’কে সরকার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আমরা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সাহেবের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছি। একটা রাজনৈতিক দলের সভাপতির মৃত্যুতে আমরা শোক প্রকাশ করেছি। কিন্তু এটা সত্য যে, এরশাদ সরকারের আমলেই এ দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে। এটাও সত্য, তার সরকারের আমলেই আমাদের বহু মানুষ, ছাত্র-জনতা নিহত হয়েছেন। জনগণের উত্তাল আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাকে সরানো হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকালে বরিশাল নগরীর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ‘খালেদা জিয়ার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তি’র দাবিতে আয়োজিত বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে আওয়ামী লীগ তাদের সঙ্গে আপস করে, তাদের সঙ্গে জোট করে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে জনগণের প্রতিপক্ষ হিসেবে অবস্থান নিয়েছে। আজকে তাকে (এরশাদ) রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হয়। আর যিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে বন্দি থাকলেন, তাকে আজ কারাগারের অন্ধকারে অন্তরীণ করে রাখা হয়।’

 খালেদা জিয়ার কারামুক্তির পথে সরকার একটি বাধা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়ায় সরকার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছি। আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো।’

এ সময় গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীরা ভোট দিয়েছেন কিনা জানতে চান মির্জা ফখরুল। নেতাকর্মীরা না-সূচক উত্তর দিলে বর্তমান সরকারকে উদ্দেশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ভোটাধিকার ফিরিয়ে এনে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এজন্য বর্তমান নির্বাচন কমিশন বাতিল করে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে হবে।’

 বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা থেকে উত্তরণে সবাইকে ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি একটা কথা বলতে চাই, এ দেশের মানুষ আমরা কখনও পরাজয় স্বীকার করিনি। আমরা আমাদের সব দাবি আদায় করেছি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। আমরা ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন করেছি, ১৯৫৪ সালে সব দল এক হয়ে যুক্তফ্রন্টের মাধ্যমে স্বৈরাচার মুসলিম লীগকে পরাজিত করেছি, আমরাই ১৯৬৯ সালে ১১ দফা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতার ঐক্য সৃষ্টি করে স্বৈরাচার আইয়ুব খানকে পরাজিত করেছি, আমরাই ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি স্বৈরাচারকে হটিয়ে দিয়ে একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ তৈরি করেছি। আমরাই ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে ছাত্র জনতার ঐক্য সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের পরাজিত করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করেছি।’


 মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে সেই দলটি, যারা ১৯৭২ সালে ক্ষমতায় আসার পর ১৯৭৫ সালে এ দেশের মানুষের অধিকার হরণ করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল, সেই দল আজকে আবার বিভিন্ন লুকোচুরির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ভেঙে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করছে।’

 দলের যুগ্ম-মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ারের সভাপতিত্বে মহাসমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। এছাড়া, উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন, জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চান, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া প্রমুখ।

/এসটিএস/এমএ/টিটি/এমওএফ/

লাইভ

টপ