নুসরাত হত্যা: আরও তিনজনের সাক্ষ্যগ্রহণ

Send
ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:৪১, জুলাই ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৫১, জুলাই ১৮, ২০১৯

নুসরাত জাহান রাফি

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যার মামলায় আরও তিনজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

সাক্ষ্যদানকারী তিনজন হলেন– ফাহমিদা আক্তার, নাসরিন সুলতানা ও মোহাম্মদ কবির আহমেদ। তারা মামলার ২৬, ২৭ ও ২৮ নম্বর সাক্ষী।

এ তথ্য নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু জানান, মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নোমানসহ এ নিয়ে ২৮ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মামলায় মোট ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন  ধার্য করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হাফেজ আহাম্মদ জানান, গত ২৭ ও ৩০ জুন মামলার বাদী ও নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানকে জেরার মধ্যদিয়ে এই মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।

তিনি আরও জানান, গত ২৯ মে আদালতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে। ৩০ মে মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়। ১০ জুন মামলাটি আদালত আমলে নিলে শুনানি শুরু হয়। ২০ জুন অভিযুক্ত ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিচারিক আদালত।

উল্লেখ্য, নুসরাত সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে তিনি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পরে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এসময় তাকে কৌশলে পাশের বহুতল ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান। এই ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে গত ৮ এপ্রিল ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

 

/এমএ/

লাইভ

টপ