‘তিন দেশে ৩০ লক্ষাধিক শিশু বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত’

Send
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০:৩৮, জুলাই ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৬, জুলাই ১৯, ২০১৯





বন্যা (ফাইল ছবি)বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে সম্প্রতি ৩০ লাখেরও বেশি শিশু বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে সেভ দ্য চিলড্রেন’র এক জরিপে উঠে এসেছে। সপ্তাহব্যাপী জরিপ চালানোর পর আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রবল বর্ষণে এই তিন দেশে হাজার হাজার গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ভূমি ধস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক ও সেতু। গ্রামগুলো বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চলগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে এবং তা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে সংস্থাটি আশঙ্কা করছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সেভ দ্য চিলড্রেন’র মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর উম্মে হাবিবা এক মেইল বার্তায় জরিপের ফল প্রকাশ করেন।
এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে বন্যায় এ পর্যন্ত ১৫০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কয়েকশ’ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্ষার শুরুতেই এই বিপর্যয় সেভ দ্য চিলড্রেন গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছে এবং সামনে আরও খারাপ আবহাওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে। এতে জীবনের ঝুঁকি, অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি, আবাসস্থলের পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য পানিবাহিত রোগের আক্রমণ ইত্যাদি কারণে ব্যাপক মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে।

ওই জরিপের ফলাফলে আরও বলা হয়, শুধুমাত্র ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আসামেই প্রায় চার হাজার গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ১৭ লাখ ২০ হাজার শিশুসহ রাজ্যের ৪৩ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; যা রাজ্যের মোট জনসংখ্যার এক দশমাংশ। বিহারে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ।
সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ’র ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. ইশতিয়াক মান্নান বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাতে আমরা অভ্যস্ত। কিন্তু এই বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যার মাত্রায় আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা মনে করি, আবহাওয়ার এই ক্রমবর্ধমান তীব্রতা ও আকস্মিক আঘাত বা এলোমেলো আচরণ জলবায়ু পরিবর্তনের ফল। শিশুরা এই ধরনের দুর্যোগে সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া, বাড়িঘর ভেঙে অন্য জায়গায় নতুন করে বসবাস শুরু করতে বাধ্য হওয়া, পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়া এবং দুর্যোগজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার মতো সমস্যায় পড়ে শিশুরা। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তিক ও দুর্গম অঞ্চলে বসবাসরত কয়েক মিলিয়ন শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। দীর্ঘায়িত বর্ষাকাল, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং হঠাৎ বন্যার মতো দুর্যোগ শিশুদের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।’
তিনি জানান, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের কক্সবাজারে অবস্থানরত এক মিলিয়নের বেশি শিশু বাঁশের তৈরি দুর্বল অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছে। ভারী বৃষ্টিতে রাস্তাগুলো কাদাময় হওয়ায় এদের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়ে। সম্প্রতি একটানা বর্ষণে অস্থায়ী আশ্রয়গুলোর আংশিক বা পুরো ধ্বংস হওয়ায় ছয় হাজারের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী আবার স্থানান্তরে বাধ্য হয়েছে।
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা রেসপন্স দলের টিম লিডার ডেভিড স্কিনার বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত কাঠামোগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে, যাতে আমরা রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়গ্রহণকারীদের জন্য সেবাগুলো অব্যাহত রাখতে পারি। কয়েক ডজন শিক্ষাকেন্দ্র এবং শিশুবান্ধব অঞ্চলসহ অন্তত ৯০টি সেভ দ্য চিলড্রেন সেবাকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সব কেন্দ্রগুলো দ্রুত মেরামত ও চালু করা প্রয়োজন, কারণ রোহিঙ্গা শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে খেলা, শিক্ষা ও সহযোগী পরিবেশে বেড়ে ওঠার জন্য এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

/আইএ/

লাইভ

টপ