হিলি বন্দরে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি ৩৬ কোটি টাকা

Send
হিলি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১:৪২, জুলাই ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৪৪, জুলাই ১৯, ২০১৯

হিলি স্থলবন্দর

সদ্য সমাপ্ত  ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে রাজস্ব আহরণে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৬ কোটি ২৯ লাখ ১৯ হাজার টাকা। এসময় বন্দর থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৩৩ কোটি ১লাখ ৮১ হাজার টাকা।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, এ বন্দর দিয়ে অধিক রাজস্বযুক্ত পণ্যের আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব  ঘাটতি হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা কাস্টমসের দ্বিমুখী নীতি ও বৈষম্যমূলক আচরণকেই এর জন্য দায়ী করেছেন।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, হিলি স্থলবন্দরে যে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে, এরজন্য মূলত কাস্টমস কর্তৃপক্ষই দায়ী।  কারণ,এ বন্দর দিয়ে যখনই অধিক শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানি হয়, তখনই আমদানিকারকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে। এর ফলে একজন আমদানিকারক একবার হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি করার পর  দ্বিতীয় বার আর  এই বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি করতে আসেন না।  ফলে হিলি দিয়ে অধিক শুল্কযুক্ত পণ্য না আসায় রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এতে করে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না।

তিনি জানান, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে তাজা ফল আমদানির ক্ষেত্রে ট্রাকের চাকা অনুযায়ী শুল্কায়নের যে হার রয়েছে, তাতে করে ছয় চাকার গাড়িতে পণ্য বিশেষে ১৬/১৭টন, ১০ চাকার গাড়িতে ২০/২৪ টনের শুল্ক দিতে হবে। দেখা যাচ্ছে, একজন আমদানিকারক যদি ছয় চাকার একটি ট্রাকে ১০ টন পণ্যও আমদানি করেন, তাহলেও তাকে ১৬ টনের শুল্ক দিতে হয়।ফলে আমদানিকারকরা  হিলি স্থলবন্দর দিয়ে এখন আর তাজা ফল পণ্য আমদানি করেন না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দরে শুল্ক দিয়ে প্রচুর পরিমাণে খৈল আমদানি হয়। কিন্তু ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কিছু অসাধু কাস্টমস কর্মকর্তা অনৈতিক সুবিধা নিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে বিশেষভাবে খৈল আমদানির সুযোগ করে দেন। তারা ফিডমিলের আইআরসি ব্যবহার করে মুসক ৭ এর রেয়াতি সুবিধা নিয়ে বিপুল পরিমাণে শুল্কমুক্তভাবে খৈল আমদানি করেছেন। এসব কারণে এই বন্দরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না, বলছেন ব্যবসায়ীরা।  

হিলি স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শাহিনুর রেজা শাহীন ও রবিউল ইসলাম সুইট বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হিলি স্থলবন্দর রাজস্ব ঘাটতির মূল কারণ হলো— এ বন্দরটি বৈষম্যের শিকার।  বিশেষ করে বেনাপোল ও ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে যেসব পণ্য আমদানি  হয় এবং যে মূল্যে আমদানি পণ্যের শুল্কায়ন ও ছাড় দেওয়া হয়, ওইসব পণ্য হিলি দিয়ে আমদানির ক্ষেত্রে বাড়তি  মূল্যে শুল্কায়ন ও ছাড়করণ দেওয়া হয়। এছাড়া,পণ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে হয়রানি করা হয়। ফলে আমদানিকারকরা এসব পণ্য আমদানিতে নিরুৎসাহিত হন।এ কারণে এখানে  রাজস্ব আহরণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই শুল্ক স্টেশনে সদ্য সমাপ্ত   অর্থবছরে (২০১৮-১৯) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল ২৬৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৩৩ কোটি ১লাখ ৮১ হাজার টাকা। এতে করে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৬ কোটি ২৯ লাখ ১৯ হাজার টাকা কম পরিমাণে রাজস্ব আদায় হয়েছে।’

লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ভারতের অভ্যন্তরে ফারাক্কা বাঁধ সংস্কার কাজের কারণে ওই সময়ে কয়েক মাস  বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি কিছুটা কম হয়েছে। বিশেষ করে এ বন্দরে রাজস্ব আদায়ের মূল পণ্য পাথর আমদানি কম হয়েছে। এছাড়া, বন্দর দিয়ে শুল্কমুক্ত পণ্যই বেশি আমদানি হওয়ায়  রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। বর্তমানে বন্দর দিয়ে গম, ডাল, পেঁয়াজ, খৈল, পাথর এসব পণ্য আমদানি হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে একমাত্র পাথর ছাড়া বাকি পণ্যগুলো শুল্কমুক্ত।’

 

 

/এপিএইচ/

লাইভ

টপ