খাবার ও পানির সংকটে গাইবান্ধার বানভাসি মানুষ

Send
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২১:২৪, জুলাই ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৪৪, জুলাই ১৯, ২০১৯

বানভাসি মানুষ (ছবি– প্রতিনিধি)

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে গত আটদিনে গাইবান্ধার একটি পৌরসভা ও ৩৭টি ইউনিয়নের ২৫২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। দিন দিন জেলায় বন্যা পরিস্থির অবনতি হচ্ছে। জীবন বাঁচাতে বানভাসি মানুষ উঁচু জায়গা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু বন্যার অবনতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রায় চার লাখ দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ। প্রয়োজনীয় খাবার, পানি, ওষুধের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, আজ শুক্রবার (১৯ জুলাই) সকাল পর্যন্ত  ব্রক্ষপুত্রের পানি বিপদসীমার ১৪৪ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রক্ষপুত্রের পানি ৬ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার কমেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বানের পানির চাপে ধসেছে ব্রক্ষপুত্র ও ঘাঘট নদীর বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের ছয়টি অংশ। সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট ধসে যাওয়ায় জেলা শহরের সঙ্গে উপজেলাগুলোর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। সাদুল্যাপুর-গাইবান্ধা, গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা-সাঘাটা সড়ক পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এ ছাড়া, রেলপথের গাইবান্ধা-সান্তাহার অংশের ওপর দিয়ে তীব্র স্রোতে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে রেললাইনের স্লিপার, পাথর সরে গেছে। এতে এ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, বন্যার পানিতে ডুবে সদর ও সাঘাটা উপজেলায় শিশুসহ দুইজন মারা গেছে। পানি ওঠায় এবং ভবন ক্ষতিগ্রস্তের কারণে বন্ধ রয়েছে আড়াই শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান।

দুর্গত মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে আছেন তারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ত্রাণ না পেয়ে অনেকটা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে তাদের।

জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকালে প্রেস ব্রিফিং করে জেলা প্রশাসন। এতে পানিবন্দি পরিবার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও ত্রাণ সহায়তার তথ্য তুলে ধরা ধরা হয়।

উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেওয়া বানভাসি মানুষ (ছবি– প্রতিনিধি)

প্রেস ব্রিফিংয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেবুন নাজার জানান, সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। পানিবন্দি মানুষের জন্য সরকারিভাবে ১৬৬টি আশ্রয়ণ প্রকল্প খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ৭১ হাজার ২৪ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গত মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে গঠন করা হয়েছে ৭৫টি মেডিক্যাল টিম। দুর্গতদের দুর্ভোগ লাগবে সরকার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল, ৬ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার ও সাড়ে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ উপজেলার দুর্গত মানুষের মধ্যে ৫৮৫ মেট্রিক টন চাল, ৪ হাজার শুকনা খাবার প্যাকেট ও নগদ সাড়ে ৬ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সরকারি বরাদ্দের মজুদ থাকা চাল, টাকা ও খাবার প্যাকেট দুর্গতদের মধ্যে বিতরণের প্রক্রিয়া চলছে। তবে লোকবল ও দুর্গত এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছাতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এ ছাড়া, দুর্গতদের জন্য নতুন করে আরও বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বন্যা মোকাবিলায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা আন্তরিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, পাঁচ উপজেলায় একলাখ ৪৩ হাজার ৪০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব পরিবারের ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৯৮ জন মানুষ পানিবন্দি হয়ে রয়েছেন। তবে পাঁচ উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফুলছড়ি উপজেলা। এ উপজেলায় ৩৯ হাজার ১৪২টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া, বিজতলা, পাট, সবজি ক্ষেতসহ ৯ হাজার ৮২১ হেক্টর জমি পানির নিচে তলিয়েছে। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে দুই হাজার ৯৪১টি পুকুরের মাছ।

 

/এমএ/

লাইভ

টপ