অবশেষে সোনাগাজীর সেই মাদ্রাসায় সিসি ক্যামেরা

Send
ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৪:২৩, জুলাই ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৩৮, জুলাই ২০, ২০১৯

 

সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসাফেনীর আলোচিত সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা অবশেষে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত মোতাবেক মাদ্রাসায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করতে মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে ১০টি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুই দিন ব্যাপী কাজ করে মাদ্রসাটি পুরোপুরি সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়।

২০১৮ সালে গভর্নিং বডির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে মাদ্রাসায় সিসি ক্যামেরা লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়। তবে মাদ্রাসা তহবিলে আর্থিক সংকটের অজুহাত তুলে সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা একক সিদ্ধান্ত নিয়ে সিসি ক্যামেরা লাগাননি। মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সাবেক সদস্য ও পৌর কাউন্সিলর শেখ মামুন এ বিষয়ে বলেন, ‘অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা তার যৌনাচার চালানোর জন্য গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিসি ক্যামেরা লাগায়নি। যদি সিসি ক্যামেরা লাগাতো তাহলে নুসরাতের মতো মেধাবী ছাত্রীকে নৃশংসভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মরতে হতো না।’ দেরিতে হলেও মাদ্রাসাটি সিসি ক্যামেরার আওতায় আসায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাও. মোহাম্মদ হোছাইন জানান, ‘গভর্নিং বডির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে মাদ্রাসাটি পুরোপুরি সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। আশা করি এবার কোনও অপরাধ সংঘটিত হলে প্রমাণ হিসেবে সিসি টিভিতে রেকর্ড থাকবে। আর কেউ অপরাধ করেও পার পাবে না।’সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায় সিসি ক্যামেরা

প্রসঙ্গত, আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে নিজের অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে গত ২৭ মার্চ  নুসরাতের মা বাদী হয়ে অধ্যক্ষকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। সে মামলা তুলে নিতে অধ্যক্ষের অনুসারীরা হুমকি দিতে থাকে নুসরাত ও তার পরিবারকে।

মামলা তুলে না নেওয়ায় গত ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এসময় তাকে কৌশলে পাশের বহুতল ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান। এই ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে গত ৮ এপ্রিল আট জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ১০ এপ্রিল মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। পিবিআই ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয়। আদালতে মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৮ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

 

/এফএস/

লাইভ

টপ