সিরাজগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট আংশিক প্রত্যাহার

Send
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৮:১৭, জুলাই ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:২১, জুলাই ২১, ২০১৯

তিন দিন ধরে চলা পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার হওয়ায় জেলায় বাস চলাচল ফের শুরুসিরাজগঞ্জে জেলা পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট রবিবার (২১ জুলাই) সকালে আংশিক প্রত্যাহার করা হয়েছে। ধর্মঘট আহ্বানের তিন দিন পর আজ সকাল ১০টায় তা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন আন্দোলনরত মালিক ও শ্রমিক নেতারা। জেলায় বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার হলেও বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে ঢাকার দিকে সিরাজগঞ্জের বাস চলাচলের বিষয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।
জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আলহাদি আলমাজি জিন্নাহ ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়ে বলেন, ‘রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সংসদ সদস্য ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না প্রশাসন ও পরিবহন নেতাদের নিয়ে বসেন। তিনিসহ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মদ বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির আশ্বাস দেন। মূলত তাদের আশ্বাস এবং চলমান বন্যায় মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট আমরা প্রত্যাহার করেছি। ধর্মঘট প্রত্যাহার হলেও প্রতিশ্রুতি অনুয়ায়ী প্রশাসন বিষয়টির মীমাংসা করতে ব্যর্থ হলে ফের আন্দোলন শুরু করবো।’
এদিকে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণার পর জেলার অভ্যন্তরীণ রুটসহ কুষ্টিয়া, খুলনা ও যশোরসহ উত্তরের বিভিন্ন জেলায় বাস ও ট্রাক চলাচল শুরু হয়েছে। তবে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে ঢাকার দিকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বেলা ১১টা পর্যন্ত শুরু হয়নি।
জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী বলেন, ‘এমপি ও জেলা প্রশাসকের অনুরোধে এবং তাদের মীমাংসার আশ্বাসে আপাতত সিরাজগঞ্জ জেলার ভেতরে ও জেলার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বাস চলাচল শুরু করেছি। ঢাকার মহাখালীর সঙ্গে আমাদের আগের দ্বন্দ্বের কোনও সমঝোতা এখনও হয়নি। সে কারণে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে ঢাকায় বাস চলাচল আপাতত বন্ধ আছে। এমপি বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিয়েছেন। মহাখালী বাস কাউন্টারে সিরাজগঞ্জের তিনটি কাউন্টার খুলে দেওয়া এবং আমাদের বাস চলাচলে প্রতিবন্ধকতা করা না হলেই কেবলমাত্র চলমান দ্বন্দ্বের মীমাংসা হবে।’
উল্লেখ্য, ‘সেবা লাইন’ নামে ঢাকার একটি পরিবহন সার্ভিসের ব্যানারে অন্তত ২০টি বাস ঢাকা-সিরাজগঞ্জ রুটে চলাচল নিয়ে সিরাজগঞ্জ ও ঢাকার মহাখালীর বাস মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে গত দেড় মাস ধরে দ্বন্দ্ব বাঁধে। এ দুই মালিক সংগঠনের বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে গত ১৩ জুলাই থেকে ঢাকার দিকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন সিরাজগঞ্জের মালিক ও শ্রমিক নেতারা। বিষয়টি সমঝোতা না হওয়ায় পূর্বঘোষিত আলিটমেটাম অনুযায়ী, গত ১৮ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয় জেলা বাস মালিক-শ্রমিক নেতাদের নিয়ন্ত্রিত সিরাজগঞ্জ পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।
অন্যদিকে, পরিবহন ধর্মঘটের আগে থেকেই সিরাজগঞ্জ জেলায় বন্যা শুরু হয়। বন্যার পাশাপাশি ধর্মঘটের কারণে জেলাবাসী দুর্ভোগে পড়েন। পরিবহন সেক্টরের ধর্মঘটের সুযোগ নিয়ে জেলার ভেতরে চলাচলরত সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া সিন্ডিকেট করে বাড়িয়ে দেওয়ায় বিপাকে পড়েন যাত্রীরা।

 

/ওআর/

লাইভ

টপ