‘বউমা আমাকে এ নির্জনে ফেলে যেও না’

Send
এনায়েত করিম বিজয়, টাঙ্গাইল
প্রকাশিত : ২২:১৫, জুলাই ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৫৫, জুলাই ২১, ২০১৯

 অসহায় ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধাছয় মাস আগে মির্জাপুরের বাড়ই খাল ব্রিজের পাশে ষাটোর্ধ্ব শাশুড়িকে ফেলে রেখে যায় পুত্রবধূ। এ সময় শাশুড়ি বউমা বউমা বলে চিৎকার করতে থাকলেও তার মন গলেনি। ওই বৃদ্ধা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে থাকেন- ‘বউমা আমাকে এ নির্জনে একা ফেলে যেও না।’ তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এলে পুত্রবধূ দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। পরে সেখানে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন তিনি।
অজ্ঞাত সেই বৃদ্ধাকে দেখতে ঘটনাস্থলে ভিড় জমায় উৎসুক অনেক মানুষ। তবে দায়িত্ব নিতে চাননি কেউ। একপর্যায়ে মির্জাপুর পৌরসভার বাইমহাটী এলাকার ভিক্ষুক মালেকা বেওয়া ওই বৃদ্ধাকে তার বাড়িতে নিয়ে যান।
মালেকা বেওয়া জানান, ‘ওই বৃদ্ধাকে রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়ার পর তিনি তাকে তার বাড়িতে রেখেছিলেন দীর্ঘদিন। অন্যের বাড়িতে থেকে পঙ্গু ছেলেকে নিয়ে ভিক্ষা করেন তিনি। ভিক্ষার টাকা দিয়েই চলছিল তার ও আশ্রিতার জীবন। কিন্তু বাড়ির মালিক ফজলু মিয়া নানা ঝুঁকির কথা চিন্তা করে ওই বৃদ্ধার দায়িত্ব ছেড়ে দিতে বলেন মালেকা বেওয়াকে। এ অবস্থায় মালেকা বেওয়া ওই বৃদ্ধাকে অন্য জায়গায় থাকার ব্যবস্থার কথা বললে বৃদ্ধা বাড়ি থেকে চলে যান। তিনি বর্তমানে কোনও কথা বলতে পারছেন না। তার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। আশ্রয়দাতা মালেকা বেওয়া আরও জানান, বৃদ্ধা নিজের নাম ও ঠিকানা না বলতে পারলেও ওই বৃদ্ধার একজন ছেলে ছিল কিন্তু তিনি মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন।
উপজেলার বহুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আজাদ রহমান বলেন, ‘শুক্রবার (১৯ জুলাই) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়ে আমরা ‘মির্জাপুর আইডিয়াল’ গ্রুপের সদস্যরা তাকে দেলদুয়ারের বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে যাই। তার শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকায় বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ তাকে সেখানে রাখেনি। পরে আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (জামুর্কী) নিয়ে গেলে বৃদ্ধা মহিলার দেখাশোনা করার মতো কেউ না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে সেখানেও রাখতে রাজি হয়নি।’

এদিকে খবর পেয়ে রাজধানীর কল্যাণপুরের ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ার’ নামের একটি বৃদ্ধাশ্রমের কর্মকর্তারা রবিবার (২১ জুলাই) দুপুরের দিকে ওই বৃদ্ধাকে নিয়ে যান। বৃদ্ধাশ্রমটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মিল্টন সমাদ্দার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ওই বৃদ্ধা বর্তমানে কথা বলতে পারছেন না। তার শারীরিক অবস্থা এখন আগের চেয়ে ভালো। তার নাম-পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

/ওআর/

লাইভ

টপ