পাঁচ বছরেও হাঁটতে পারে না সেই সুরাইয়া

Send
মাজহারুল হক লিপু, মাগুরা
প্রকাশিত : ১২:৫৯, জুলাই ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:১৭, জুলাই ২২, ২০১৯

মায়ের কোলে সুরাইয়াআগামীকাল মঙ্গলবার ২৩ জুলাই, মাতৃগর্ভে গুলিবিদ্ধ শিশু সুরাইয়া পাঁচ বছরে পা দেবে। চার বছর পেরিয়ে গেলেও সে এখনও হাঁটতে পারে না। হামাগুড়ি দিয়ে চলাফেরা করে। আগে থেকেই তার একটি চোখ নষ্ট, তার ওপর হাঁটতে পারে না। তাই সন্তানের জন্মদিনে আনন্দের থেকেও তার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত মা-বাবা।

জন্মদিনের আগের দিন মাগুরা শহরের দোয়ারপাড়ে সুরাইয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেলো, বাড়ির বারান্দায় অন্য শিশুদের সঙ্গে সে খেলছে। তার বয়সী অন্য শিশুরা দৌড়ে বেড়ালেও, সে হামাগুড়ি দিয়ে চলাফেরা করে।

সুরাইয়াসুরাইয়ার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে মা নাজমা বেগম বলেন, মেয়ের ডান চোখটি একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। বাম চোখটির অবস্থাও ভালো না। চিকিৎসক বলেছেন, ডান চোখ তুলে না ফেললে বাম চোখও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তার সমবয়সীরা এখন দৌড়ে বেড়ালেও, সুরাইয়া এখনও দাঁড়াতে পারে না। কেউ দু’হাতে ধরে থাকলে দাঁড়াতে পারে। হাত ছেড়ে দিলে পড়ে যায়। তার গলায় একটি টিউমারও ধরা পড়েছে।  সুরাইয়ার ডান পাশের জোর কমে যাচ্ছে। ডান হাতে সে কোনও কিছু ধরতে পারে না। চিকিৎসকরা বলেছেন, সুরাইয়া উন্নত চিকিৎসা পেলেই ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু আমাদের সেই অর্থনৈতিক ক্ষমতা নেই যে তাকে উন্নত চিকিৎসা দেবো।

সুরাইয়াসুরাইয়ার বাবা বাচ্চু ভুইয়া বলেন, ‘মেয়ের জন্মের পর অনেকেই আশ্বাস দিয়েছিলেন আজীবন সুরাইয়ার পাশে থাকবেন। কিন্তু এখন কাউকেই পাশে পাওয়া যায় না। ওর জন্মদিনে কোনও উৎসব নেই, আমরা এখন ওর ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছি।’

তিনি আরও জানান,  মাগুরার দু’জন চিকিৎসক ডা. জয়স্ত কুমার কুণ্ডু ও ডা.শফিউর রহমান সুরাইয়াকে বিনামূল্যে চিকিৎসা করেন। কিন্তু ওষুধ কিনতে গিয়ে তারা হিমশিম খান। ঢাকার শিশু বিকাশ কেন্দ্রে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়া গেলেও ঢাকায় প্রতিমাসে যাওয়া-আসা এবং থাকার যে খরচ তা তার মতো চায়ের দোকানদারের পক্ষে বহন করা সম্ভব না। সরকার বা কোনও সচ্ছল ব্যক্তি যদি এগিয়ে আসেন, তবে সুরাইয়ার পক্ষে হেঁটে বেড়ানো সম্ভব হতো। ওর একটা চোখ ঠিক থাকতো।

হাঁটতে পারে না, তাই চেয়ারেই বসে দিন কাটে তারসার্জন শফিউর রহমান বলেন, ‘এখানে যতটুকু সম্ভব আমরা তা করি ও করছি। তবে উন্নত চিকিৎসা পেলে সুরাইয়ার অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।’

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৩ জুলাই মাগুরায় দু’দল সন্ত্রাসীর মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন নাজমা এবং তার গর্ভে থাকা সুরাইয়া। পরে মাগুরা সদর হাসপাতালের সার্জন শফিউর রহমান অস্ত্রোপচার করেন। 

/এসটি/এমএমজে/

লাইভ

টপ