লালমনিরহাটে ফের বিপদসীমার ওপরে তিস্তার পানি, বেড়েছে দুর্ভোগ

Send
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০২:৫৩, জুলাই ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:০৩, জুলাই ২৩, ২০১৯

 

বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে রেললাইনলালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোড্ডিমারী ইউনিয়নের তিস্তা ব্যারেজ সেচপ্রকল্প এলাকায় আবারও তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে উঠে গেছে। এতে নতুন করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। দুর্গতদের কষ্ট লাঘবে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পানি পরিমাপক) আমিনুর রশীদ জানান, সোমবার (২২ জুলাই) সকাল থেকে তিস্তার পানি বাড়তে থাকে। সন্ধ্যা ৬টায় ব্যারেজের উজানে ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে তিস্তায় পানি আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেন।

এদিকে, তিস্তার পানি নতুন করে বেড়ে যাওয়ায় নদী তীরবর্তী পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম; হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, সিঙ্গিমারী, সিন্দুর্ণা, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ী, গোড্ডিমারী; কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, তুষভাণ্ডার, কাকিনা; আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁজা ও সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, গোকুণ্ডা ও পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

লালমনিরহাট-১ আসনের (পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা) সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট (অব.) মোতাহার হোসেন বলেন, ‘তিস্তা নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য পানিতেই বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের উচ্চ মহলে আলোচনা করা হয়েছে। বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে নদী খনন ও বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণের চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার। এ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারলে কয়েক হাজার হেক্টর কৃষি জমি ও কয়েক হাজার পরিবারকে বন্যার কবল থেকে রক্ষা করা যাবে।’

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের দুর্গতদের খোঁজ-খবর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪১০ মেট্রিক টন চাল, সাড়ে ৯ লাখ টাকা, তিন হাজার ৩৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সবকিছু প্রস্তুত রয়েছে। আশা করি, কোথাও কোনও সমস্যা হবে না।’

 

/আইএ/

লাইভ

টপ