নওগাঁয় ছেলেধরা আতঙ্কে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কম

Send
আব্দুর রউফ পাভেল, নওগাঁ
প্রকাশিত : ০৩:৫০, জুলাই ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৪:০৭, জুলাই ২৩, ২০১৯

নওগাঁপদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবে—সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর, অনেক অভিভাবকের মধ্যেই শিশু সন্তানকে নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকজনকে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকে। এই পরিস্থিতিতে নওগাঁর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হঠাৎ করে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার কমে গেছে। ছেলেধরা আতঙ্কে ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন অভিভাবকরা।

রবিবার (২১ জুলাই) নওগাঁর মান্দায় ছেলেধরা সন্দেহে ছয় জেলেকে গণপিটুনি দেয় এলাকাবাসী। সংবাদ পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। তারা নওগাঁ সদর উপজেলার খাগড়া গ্রাম থেকে ওই এলাকায় মাছ শিকার করতে গিয়েছিলেন। পারে জানা যায়, ওই ছয় জনের কেউই ছেলেধরা নন, জেলে। একই দিনে আবুল কালাম (৫৫) নামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তিকে ছেলেধরা সন্দেহে উপজেলার মহানগর গ্রামে গণপিটুনি দিয়ে থানায় সোপর্দ করা হয়।

বদলগাছী উপজেলার চাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টিতে শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০৪ জন। কিন্তু গত এক সপ্তাহে ছেলেধরা গুজবে উপস্থিতি ৭০ শতাংশেরও কম। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘টেলিভিশন ও পত্রিকা মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় ছেলেধরা গুজব শোনা যাচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে ভয় পাচ্ছিল। আমরা অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের বুঝিয়েছি ছেলেধরা একটা গুজব, মিথ্যা ও অপপ্রচার। এরপর শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে শুরু করেছে। তবে কয়েকদিন উপস্থিতি কম ছিল।’

নওগাঁ সদর উপজেলার কীত্তিপুর-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১১০ জন হলেও উপস্থিত ছিল ৮০ জন। সেখানেও ছেলেধরা গুজবের কারণে শিক্ষার্থীরা কম উপস্থিত বলে জানা যায়।

সাপাহার উপজেলার আইহাই ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায় মুংরইল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫০ জন। গত কয়েকদিনে ছেলেধরা গুজবে বিদ্যালয়টিতে ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকছেন বলে জানান শিক্ষকরা। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ‘আমাদের গ্রামটি সীমান্তবর্তী। গত কয়েকদিন থেকে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে ছেলেধরা আতঙ্ক। এতে করে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে ভয় পাচ্ছে। ফলে কমেছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি।’

বদলগাছী উপজেলার চাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শামীম জানায়, পাড়ার লোকজন বাড়িতে গিয়ে গলাকাটার (ছেলেধরার) ভয় দেখিয়েছে। এ জন্য বাবা-মা গত তিন দিন তাকে স্কুলে আসতে দেয়নি।

নওগাঁ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ইতোমধ্যে শিক্ষা অফিসারদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ছেলেধরা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। গত কয়েকদিন থেকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। তবে উপবৃত্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি প্রয়োজন। তাই এখন ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে নিয়মিত আসছে।’

এ ব্যাপারে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন পিপিএম বলেন, ‘এটা একটা গুজব। এ ধরনের গুজবে কাউকে কান না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মসজিদের মাধ্যমে এ অপপ্রচারে মুসল্লিদের কান না দেওয়ার জন্য প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

 

/আইএ/

লাইভ

টপ