বাংলাদেশের পরিচয় বদলে দিয়েছেন শেখ হাসিনা: তথ্যমন্ত্রী

Send
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ১৪:০৭, জুলাই ৩০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৪৬, জুলাই ৩০, ২০১৯

চট্টগ্রামে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের পরিচয় বদলে দিয়েছেন। কীভাবে পরিচয় বদলে দিলেন? পরিচয় বদলে দিলেন এভাবে, আমরা দরিদ্র দেশ ছিলাম। বিশ্বব্যাংকের প্রাক্কলন কিংবা অন্য কোনও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থার প্রাক্কলনে আমরা এখন আর দরিদ্র দেশ নই, নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা পুরোপুরি মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হবো।’

চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘গৌরবের অভিযাত্রায় ৭০ বছর তারুণ্যের ভাবনা’ শিরোনামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “৫০ দশকের দিকে যখন এ দেশের লোকসংখ্যা চার কোটি ৭০ লাখ, তখন দেশে খাদ্যের ঘাটতি ছিল। এখন বাংলাদেশে লোকসংখ্যা ১৬ কোটি ৬৫ লাখ। জনসংখ্যা তিনগুণ বেড়েছে। অন্যদিকে কৃষি জমি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমেছে। সেই দেশ আজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। বাংলাদেশে এখন ছেঁড়া কাপড় পরা মানুষ দেখা যায় না। খালি পায়ে মানুষ দেখা যায় না। সকাল-সন্ধ্যায় গ্রামে কিংবা শহরের অলিগলিতে ‘মা আমাকে পানিভাত দেন’- এ ডাক শোনা যায় না।”

‘গৌরবের অভিযাত্রায় ৭০ বছর` শীর্ষক অনুষ্ঠানতিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে আগে বিদেশ থেকে পুরনো কাপড় আসতো, সেগুলো আমরা ধোলাই করে পড়তাম। এখন বাংলাদেশ থেকে রেডিমেট গার্মেন্ট বিদেশে যায়। ইউরোপের বড় বড় শপিংমলে বিক্রি হয়। এখন কবিতায় কুঁড়েঘর আছে বাস্তবে কুঁড়েঘর নেই। আকাশ থেকে চট্টগ্রাম শহর চেনা যায় না। আকাশ থেকে ঢাকা শহর চেনা যায় না। আকাশ থেকে আক্তারুজ্জামান ফ্লাইওভার দেখে মনে হয় যে ইংরেজি সিনেমার কোনও দৃশ্যপট দেখছি। যখন ঢাকায় কুড়িল ফ্লাইওভার দেখি, তখন আনন্দ হয় এটি বুঝি ইংরেজি সিনেমার কোনও দৃশ্য।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা লড়াই করে গেছেন। লড়াই করতে গিয়ে তিনি বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন। ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। কোটালিপাড়ায় বোমা পুঁতে তাকে হত্যার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বৃষ্টির মতো গ্রেনেড ছুড়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ৩২ নম্বর বাড়িতে তাকে হত্যা করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্তু তিনি বারবার মৃত্যু উপত্যকা থেকে ফিরে এসেছেন। তিনি বাংলাদেশে ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে তরুণদের প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল ও ওয়াসিকা আয়েশা খান।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা এমন একজন ক্যারেশমেটিক লিডার, তার আর্কষণ ও ব্যক্তিত্ব বঙ্গবন্ধুর মতোই। বঙ্গবন্ধুর সময় সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, মনসুর আলীসহ অন্যান্য অনেক বড় নেতা ছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সবার ওপরে উঠে এসেছিলেন। কারণ, তার যে ব্যক্তিত্ব এবং তার যে আকর্ষণ করার ক্ষমতা, সেটি তাকে ওপরে নিয়ে গেছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তার বাবার কাছ থেকে এগুলো পেয়েছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে তাকেও ছাড়িয়ে গেছেন। তার যে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এবং দেশের মধ্যেও তার যে অবস্থান তাতে সবাই মনে করেন মনে হয় তিনিই সব ক্ষমতার উৎস। মনে হয় তাই। বিষয়টি তা নয়। বাস্তবতা হলো, মন্ত্রীরা প্রত্যেকে তার মন্ত্রণালয় পরিচালনা করেন। আবার তাদের অধীনস্থ যেসব বিভাগ আছে সেগুলো তাদের মতো কাজ করছে। সুতরাং এখানে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ আছে।’

/এফএস/এমওএফ/

লাইভ

টপ