ময়মনসিংহ সদরের চর জেলখানা এলাকার মাছ চাষি মুক্তার হোসেন (৪০)। ১০ একর জমিতে তার পুকুর রয়েছে মোট ৬টি। চলতি বছর ধারদেনা করে দেশীয় জাতের মাছ চাষ করেছিলেন। সেখানে প্রায় ৮ লাখ টাকার পোনাসহ বিক্রির উপযোগী মাছ ছিল। কিন্তু ভারতীয় পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে বন্যায় পুকুরগুলো ডুবে গিয়ে সব মাছ ভেসে গেছে। এখন সংসার চালানো দূরের কথা, ধারদেনা কীভাবে শোধ করবেন এই নিয়ে চিন্তিত তিনি। শুধু মুক্তারই নয়, বন্যার পানিতে ময়মনসিংহ সদরসহ ৪ উপজেলার ৭৯৪টি পুকুরের ৪ কোটি ৭১ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। এই তথ্য জানিয়েছেন ময়মনসিংহ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুর রউফ।
মুক্তার হোসেন জানান, প্রতিবেশী আকলিমা খাতুনের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা সুদে ধার করে পুকুরে মাছ চাষ করেছিলাম। এছাড়া মাছের খাবারের দোকানে বাকি আছে আরও ১ লাখ টাকার বেশি। হঠাৎ বন্যায় পুরো এলাকায় পানি উঠে যাওয়ায় পুকুরের সব মাছ ভেসে গেছে। এখন সংসার কীভাবে চলবে আর ঋণের টাকাসহ দোকানের বাকি টাকা পরিশোধ কীভাবে হবে এই নিয়ে চিন্তিত তিনি।
চরজেলখানা এলাকার মাছের খামারি ইকরাম হোসেন সোহাগ জানান, তার ১০টি পুকুরে থাকা দেশীয় রুই কাতলাসহ বিভিন্ন জাতের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এসব মাছের মূল্য ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকার মতো হবে।
এবারের বন্যায় শতশত মাছ চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দাবি করে তিনি জানান, সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সাহায্য না করলে তারা আর দাঁড়াতে পারবেন না। সরকারের সুদৃষ্টি দাবি করেন তিনি।
চরগোবিন্দপুর এলাকার মাছ চাষি দেলোয়ার হোসেন জানান, বন্যার পানি পুকুরে ঢুকে পড়ায় কোনোভাবেই মাছ রক্ষা করা যায়নি। প্রায় ৪-৫ লাখ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে বলে জানান তিনি।
ময়মনসিংহ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুর রউফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বন্যায় সদরের তিনটি চরসিরতা, চরঈশ্বরদিয়া ও চরনিলক্ষীয়া ইউনিয়ন, ফুলপুরের ৪টি সিংহেশ্বর, ছনধরা, ফুলপুর সদর ও বওলা ইউনিয়ন, হালুয়াঘাটের ৫টি ধুরাইল, নরাইল, বিলডোরা, আমতৈল ও সাকুয়াই এবং ধোবাউড়ার ৭টি দক্ষিণ মাইজপাড়া, গামারীতলা, সদর, পুরাকান্দুলিয়া, গোয়াতলা, বাঘবেড় ও ঘোষগাও ইউনিয়নে মাছের খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বন্যায় ৩ লাখ ১১ মেট্রিক টন মাছ, ২ কোটি ৪২ লাখ মাছের পোনা বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।’
মাছ, পোনা ও অবকাঠামোসহ ক্ষতি হয়েছে ৪ কোটি ৭১ লাখ টাকার। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।








