সারাদেশে সুষ্ঠুভাবে ঈদুল আজহা পালিত

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭:২৮, আগস্ট ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:২৯, আগস্ট ১২, ২০১৯

দিনাজপুর গোড়-এ শহীদ বড় ময়দানের ঈদ জামাত

সারাদেশে আনন্দঘন পরিবেশে ঈদুল আজহা পালিত হয়েছে। বিভিন্ন ঈদগাঁ মাঠের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ছিল নিরাপত্তাবাহিনীর উপস্থিতি। নামাজের পরে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর শুরু হয় পশু কোরবানি ও মাংস বিতরণ। বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

বাগেরহাটে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্ব ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদে। এই মসজিদে সকাল সাড়ে আটটায় ঈদের দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বৈরী আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে জেলার বাইরে থেকেও শত শত মুসল্লি এখানে ঈদের নামাজ আদায় করতে আসেন।

বরিশাল বিভাগে সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় সদর উপজেলার চরমোনাই দরবার শরীফ মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায়। পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম ঈদ জামাতে ইমামতি করেন।

বরিশালে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায় হেমায়েতউদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে। সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী, জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমানসহ শীর্ষ রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক নেতা এবং প্রশাসনের কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি প্রধান জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও সদর আসনের এমপি কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম ঈদ জামাত আদায় করেন নগরীর করিম কুটির জামে মসজিদে সকাল ৮টায়।

বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদের ঈদ জামাত

সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রথম ও প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় বান্দরবান কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে। এসময় শহরের হাজার হাজার মুসল্লি ঈদের জামাত আদায় করেন। জামাত পরিচালনা করেন বান্দরবান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আলাউদ্দনি ইমামী।

বান্দরবানে বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলা ঈদগাহ ময়দানের পরিবর্তে সকাল সোয়া ৮টায় জেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।  মোনাজাতে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করা হয়।

বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা আর ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে কক্সবাজারে পালিত হয়েছে ঈদুল আজহা। সকাল আটটায় কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ভারপ্রাপ্ত খতিব মুফতি মাওলানা সোলাইমান কাসেমী।

গোপালগঞ্জে শেখ ফজলুল হক মনি স্টেডিয়াম মাঠে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জেলার প্রধান এই জামাতে ইমামতি করেন ইমাম হাফিজুর।

খাগড়াছড়িতে ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশের মধ্যে দিয়ে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নীলফামারীর ঈদ জামাতে ইসলামের অপব্যাখাকারী ও জঙ্গিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

খুলনায় প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় টাউন জামে মসজিদে সকাল আটটায়। এই  জামাতে ইমামতি করেন খুলনা টাউন জাম মসজিদের ভারপ্রাপ্ত খতিব আলহাজ মাওলানা আবু দাউদ। এছাড়া কার্টে জামে মসজিদে সকাল সাড়ে আটটায় একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। 

নারায়ণগঞ্জ নগরীর মাসদাইর জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রস্তাবিত এ  কে এম সামসুজ্জোহা স্টেডিয়াম, পাশের ঈদগাঁ মাঠ ও রাস্তা মিলিয়ে বড় একটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল আটটায় ঈদুল আজহার জামাতে ইমামতি করেন  নুর মসজিদের ঈমাম আব্দুস সালাম। জামাতে অংশ নেন নারায়ণগঞ্জ চার আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান, জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সরকারি কর্মকর্তারা।

আয়তনে সবচেয়ে বড় দিনাজপুর গোড়-এ শহীদ বড় ময়দানে সুষ্ঠুভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারে ষষ্ট বারের মতো আয়োজিত এই ঈদের জামাতে প্রায় চার লাখ মুসল্লির সমাগম হয় বলে জানিয়েছে আয়োজকরা। সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত ঈদের জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা শামসুল ইসলাম কাশেমী। ঈদের জামাতে সুপ্রিম কোর্ট বিভাগের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম, পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমসহ জেলার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন। ঈদ জামাত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আয়োজনে কোনও কমতি ছিল না। পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, অস্ত্রধারী আনসার, ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরা এবং সাদা পোশাকে পুলিশের নিরাপত্তার বলয় ছিল মাঠজুড়ে।

 

/এএইচ/

লাইভ

টপ