ঈদ নেই ভোলার শোকার্ত জেলে পরিবারগুলোর

Send
ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৮:২৩, আগস্ট ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৩৫, আগস্ট ১২, ২০১৯

স্বামী ও স্বজনদের হারিয়ে অসহায় অবস্থায় পড়েছেন এসব জেলেবউ

এক মাস আগে ট্রলারডুবিতে পরিবারের উপার্জনকারী ব্যক্তির প্রাণহানি ও অনেকে নিখোঁজ থাকার কারণে ঈদ নেই ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার জেলে পরিবারগুলোতে। সংসার চালানোই যেখানে অসাধ্য, সেখানে ঈদের জন্য কোরবানি করা রীতিমতোই দুঃস্বপ্ন তাদের কাছে। গত বছরও যারা আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে ঈদ উদযাপন করেছিল, এবছর তাদের পরিবারে চলছে শুধুই কান্না। ঈদ উপলক্ষে এসব পরিবারের পাশে নেই কেউ।

গত ৬ জুলাই চরফ্যাশন উপজেলার নুরাবাদ, জিন্নাগড় ও মাদ্রাজ ইউনিয়নের ৩৩ জেলে দু’টি ফিশিং বোট নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যান। বিরূপ আবহাওয়ার কবলে পড়ে সাগরে ডুবে যায় ট্রলার দু’টি। ৯ জুলাই সাগরের জোয়ারে  ১টি ট্রলার কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কাছে ভেসে উঠলে মাঝিদের সহায়তায় সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় ৭ টি মরদেহ। জীবিত পাওয়া যায় মনির মাঝি ও জুয়েল মাঝি নামের ২ জনকে। বাকিদের সন্ধান এখনও মেলেনি। পরিবারগুলোর ধারণা তারা হয়তো আর বেঁচে নেই।

এসব পরিবারের অসহায় মা, বিধবা স্ত্রী আর ছোট ছোট এতিম শিশুদের চোখে-মুখে এখন শুধুই হতাশা আর কান্না। উপার্জনকারী ব্যক্তি নেই, সংসারের হাল ধরবে কে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। এমনকি ঈদের আনন্দও তাদের কাছে শোকে পরিণত হয়েছে।

 ঈদের দু’দিন আগে এই জেলে পাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে, ঘটনাস্থলে ট্রলার ডুবে মারা যাওয়া মাকছুদ মাঝি ও সাহাবুদ্দিন মাঝির পরিবারে চলছে শোকের মাতম। তাদের স্ত্রীদের চোখে শুধুই পানি। ঈদ নিয়ে জেলা পাড়ার সন্তানদের কোনও উচ্ছ্বাস নেই। বেঁচে থাকার তাগিদে সবাই দুমুঠো খাবারের খোঁজ করছে। শাজাহান মাঝির ছেলে রাকিব ও অলিউল্লাহ গাছির স্কুল পড়ুয়া মেয়ে স্বপ্না এবং বাবুল মাঝির মেয়ে শিমু জানায়, এবার  আনন্দের পরিবর্তে চোখের পানিতেই ঈদ পালন করতে হবে।

এসব শিশুর অনেকের বাবা ট্রলারডুবিতে মারা গেছে, অনেকের বাবা এখনও নিখোঁজ

প্রতি বছরই এভাবে মাছ ধরতে গিয়ে ভোলা জেলার ৭ উপজেলায় অনেক জেলে প্রাণ হারাচ্ছেন, নিখোঁজ হচ্ছেন। বাড়ছে অসহায় পরিবারের সংখ্যা। কিন্তু এসব পরিবারের পাশে কখনও কেউ দাঁড়াচ্ছে না।

এ বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আকরাম হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এসব পরিবারের জন্য বিশেষ কোনও বরাদ্দ বা নির্দেশনা নেই। ভবিষ্যতে বরাদ্দ পাওয়া গেলে তাদের পাশে থাকবে ত্রাণ বিভাগ।

অন্যদিকে, জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, গত ৩ বছরে ভোলা জেলায় ১১২ জন জেলে ডুবে মারা গেছেন। নিখোঁজ আছেন আরও ১৫৭ জেলে।

 

/টিএন/

লাইভ

টপ