খুলনার চামড়া যাচ্ছে ট্যানারিতে, মধ্যস্বত্বভোগী ও ব্যবসায়ীরা সংকটে

Send
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২১:০৪, আগস্ট ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৪৬, আগস্ট ১৩, ২০১৯

3 pic collage templateখুলনা অঞ্চলের মাদ্রাসা ও ট্যানারি মালিকের সমন্বয় এখন খুবই ভালো যাচ্ছে চামড়ার ব্যবসা। খুলনা অঞ্চলের চামড়া সরাসরি যাচ্ছে ফুলতলার সুপার ট্যানারি ও যশোরের আকিজ ট্যানারিতে। মাদ্রাসাগুলোও আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে এতে। আর এ অঞ্চলের চামড়াও পাচার হওয়া ও যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পাচ্ছে। কিন্তু এতে গভীর সংকটে পড়েছেন এ অঞ্চলের নিয়মিত চামড়া ব্যবসায়ী এবং কোরবানির সময়ের মধ্যস্বত্বভোগীরা।

খুলনার শেখপাড়া চামড়াপট্টির ইয়াসিন লেদারের মো. আবু জাফর বলেন, ‘এ চামড়াপট্টিতে ৩৫ জন ব্যবসায়ী ছিলেন। এখন ৫৬ জন রয়েছেন। তারা অর্থ সংকটের কারণে এবার পর্যাপ্ত চামড়া কিনতে পারছেন না। গত বছর কিনেছিলাম এক হাজার ৮০০ পিস চামড়া। এবার মাত্র এক হাজার ২০০ পিস চামড়া কিনতে পেরেছেন। এবার চামড়া কেনারই কোনও আগ্রহ ছিল না। দোকান খোলা, চামড়া নিয়ে লোকজন আসছেন, দেখার পর যাকে যে দাম বলছি টাকা নিয়ে চামড়া নিয়ে চলে যাচ্ছেন।’ তিনি জানান, এবার গরুর বড় চামড়া ৪শ’ টাকা দর দিয়েছেন। ছোট গরুর চামড়া তিনি ১শ’ টাকায়ও কিনেছেন।

শহিদুল লেদারের মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘চামড়া নিয়ে মাদ্রাসার লোকজন আর এ চামড়াপট্টিতে আসছে না। ট্যানারির সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে তো। তাই তারা (মাদ্রাসা) চামড়া নিয়ে সুপার ও আকিজ ট্যানারিতে দিয়ে আসছে। আমরা চামড়া কেনার জন্য টাকাই পাচ্ছি না। ঢাকার ট্যানারিতে আমার ৫৬ লাখ টাকা বকেয়া পড়ে আছে। ওই টাকা এ বছরও দেয়নি। ফলে এবারও ধারদেনা করে কিছু চামড়া কিনেছি। তা না হলে ব্যবসা টিকছে না।’ তিনি এ বছর এক হাজার পিস চামড়া কিনতে পেয়েছেন। গত বছর তিনি এক হাজার ৭৫০ পিস চামড়া কিনেছিলেন।

আমান লেদারের মো. মুন্না জানান, তারা ফাকার ট্যানারিতে চামড়া দিয়ে থাকেন। তাই সেখানে ৪৭ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। এবার মাত্র ২০ ভাগ টাকা দিয়েছে। যা দায়দেনা পরিশোধেই চলে গেছে। এ অবস্থায় চামড়া কেনাও কঠিন হচ্ছে। এবার মাত্র ৬শ’ পিস চামড়া কিনেছেন। গত বছর চামড়া কিনেছিলেন ২২শ’ পিস।

খুলনার লবণচড়ার আহমদিয়া এতিমখানা ও মাদ্রাসার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, তারা মাদ্রাসার জন্য ১৭০টি চামড়া পেয়েছিলেন। যা ঈদের দিনই ট্যানারির গাড়ি এসে নিয়ে গেছে। ওরা পরে দর হিসাব করে টাকা দেবে। ট্যানারিতে চামড়া দিয়ে মাদ্রাসার জন্য লাভই হয়। আর এখানে চমড়ার দাম পাওয়া যায় না। এখানে গরুর পাঁচটি ও ছাগলের একটি চামড়া নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু ছয়টি চামড়ায় মাত্র ৪৫০ টাকা দিয়েছে। যাতে রিকশা ভাড়াও ওঠে না।

ফুলতলার সুপার ট্যানারির এমডি ফিরোজ ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা চেষ্ট করি চামড়ার যথাযথ দাম পরিশোধ করতে। এখানে চামড়া দিয়ে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। আর আমাদের এ উদ্যোগের ফলে জাতীয় সম্পদ চামড়া নষ্ট হওয়া বা পাচার হওয়া থেকে রক্ষা পাচ্ছে। খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, নড়াইল, যশোর ও মাগুরার মাদ্রাসা থেকে চামড়া এখানে চলে আসছে। চামড়া আসার হার প্রতি বছরই বাড়ছে। ২০১৬ সালে ১০ হাজার পিস চামড়া আসে। ২০১৭ সালে এখানে ৩০ হাজার পিস চামড়া পাওয়া যায়। ২০১৮ সালে প্রায় ৫০ হাজার পিস চামড়া আসে। এ বছর আসা চামড়ার হিসাব দু-একদিনের মধ্যে চূড়ান্ত হবে। আর চামড়ার দামও ১০-১৫ দিনের পরিশোধ করা হবে। এখানে মাদ্রাসা থেকে চামড়া আসার পর তা প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। এজন্য প্রাথমিক কাজ হিসেবে চট্টগ্রাম থেকে লঞ্চযোগে আনা হয়েছে লবণ।’

/এমএএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ