যশোরে জমেনি প্রথম হাট, হতাশ চামড়া ব্যবসায়ীরা

Send
তৌহিদ জামান, যশোর
প্রকাশিত : ১৩:০৭, আগস্ট ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:২১, আগস্ট ১৪, ২০১৯

দাম না পেয়ে হতাশ চামড়া ব্যবসায়ীযশোরের রাজারহাট এলাকায় মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) বসা ঈদ পরবর্তী প্রথম চামড়ার হাট জমেনি। অল্প কিছু ব্যবসায়ী হাটে চামড়া আনলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ চামড়া ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন। আবার অনেকে হাটেই চামড়া ফেলে গেছেন।

ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া কিনেও ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে তাদের। এমন চলতে থাকলে চামড়ার পাচার হয়ে যেতে পরে। এছাড়া ঢাকার ট্যানারি মালিকরা বকেয়া পরিশোধ না করায় অর্থ সংকটে রয়েছেন তারা।

রাজারহাট দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বড় চামড়ার হাট। এখানে খুলনার বিভাগের ১০ জেলার ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা, ঈশ্বরদী, নাটোরের বড় বড় ব্যবসায়ীরা চামড়া বেচাকেনা করেন। ঈদ পরবর্তী প্রথম হাটে দুই থেকে আড়াই হাজারের মতো চামড়া এনেছিলেন ব্যবসায়ীরা।

খুলনার ফুলতলা থেকে ৪৫ পিস গরুর চামড়া নিয়ে এসেছিলেন সুখেন দাস নামে একজন ক্ষুদে ব্যবসায়ী। একটু ছোট সাইজের এই চামড়ার দাম বলা হয় ২০ টাকা করে।

রাজাহাটের চামড়ার হাটতিনি বলেন,  ‘পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে চামড়া সংগ্রহ,লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত এবং পরিবহন ব্যয় মিলিয়ে তার প্রতি পিস সাড়ে ৩০০ টাকার বেশি খরচ হয়ে গেছে। এখন বিক্রিও করতে পারছেন না, আবার ফিরিয়ে নিতে গেলেও আলাদা খরচ। তাই এগুলো ফেলে দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকছে না।’

সাতক্ষীরার কলারোয়া থেকে আসা নূর ইসলাম ছাগলের ৬০টি ও ৮০টি  চামড়া এনেছিলেন। তিনি বলেন, ‘চামড়া ফুট হিসেবে নয়, থামকো দাম করা হয়েছে ১০ টাকা দরে। আর গাই গরুর চামড়া প্রতি পিস ৮০-৯০ টাকা এবং অপেক্ষাকৃত ভালো চামড়ার দাম উঠেছে ৪০০ টাকা পর্যন্ত।’

তিনি বলেন, ‘লবণ আনা-নেওয়া এবং সংগ্রহ বাবাদ গরুর চামড়ায় প্রতি পিস খরচ সাড়ে ৫০০ টাকার মতো। এই অবস্থায় বিক্রি করলে জায়গায় ক্ষতি হয়ে যাবে। আবার না বিক্রি করলে তা ফিরিয়ে নিয়ে প্রক্রিয়াজাত করতে আবার খরচ। কী যে করবো,ভেবে পাচ্ছি না।’

ডুমুরিয়ার শান্তনু দাস জানান, তার ১০০ পিস ছাগলের চামড়ায় গড়ে খরচ ৪০ টাকা ও ২০ পিস গরুর চামড়ায় গড়ে খরচ ৫০০ টাকা। কিন্তু আড়তদার বলছেন, গরুর চামড়া তিনিই বিক্রি করবেন ৪০০ টাকা করে।

রাজাহাটের চামড়ার হাটকোরবানির পশুর চামড়ার বেশিরভাগই পায় স্থানীয় বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানা। কিন্তু কম দামের কারণে খুচরা ক্রেতাদের কেউই আর চামড়া কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন না।

যশোর খড়কি কওমি মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সদস্য জাকির হোসেন পলাশ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৫-৭ বছর আগেও গরুর একটি চামড়া  ১৫০০-১৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। অথচ এবার কেউই ৩০০ টাকার বেশি কেউই দাম বলছে না। এই দামে বিক্রি করলেও সেই টাকা আগামী কোরবানির ঈদের আগে তারা পরিশোধও করতে পারবেন না বলে জানাচ্ছেন।

তিনি বলেন, কোরবানির এই চামড়া এতিমদের হক। সরকার যদি দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে এসব শিশুরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।

হাটের বড় ব্যবসায়ী এবং জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মমিনুল মজিদ পলাশ বলেন, ‘আমাদের চামড়ার সবচেয়ে বড় বাজার চীনে। তাদের ওখানে এখন চামড়ার চাহিদা খুবই কম। সে কারণে দামও বেশি পাচ্ছি না,তাই হাটে চামড়াও উঠছে না। এছাড়া ট্যানারি মালিকদের চতুরতাও একটি কারণ। তারা আমাদের কাছ থেকে মাল নিচ্ছে,কিন্তু মূল্য পরিশোধে টালবাহানা করছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে এই শিল্প খুব শিগগির লাটে উঠবে।’

রাজাহাটের চামড়ার হাটহাটের ইজারাদার হাসানুজ্জামান হাসু বলেন, ‘অনেকেরই টাকা আটকে রয়েছে ব্যবসায়ী আর ট্যানারি মালিকদের কাছে। দাম নেই সেকারণে মানুষ আর চামড়া কিনছে না। দেশে দাম না পেলে চামড়া তো পাচার হবেই।’

চামড়া পাচারের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা চামড়ায় লবণ দেওয়ার কাজে ব্যস্ত থাকায় প্রথম দিনের হাট জমেনি। তবে আগামী শনিবারের হাট (১৭ আগস্ট) জমবে। সেক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ ট্যানারি মালিকদের কাছে থাকা বকেয়া টাকা এখনও তারা হাতে পাননি। গত তিন বছর প্রশাসনের নজরদারি যেমন বেড়েছে, তাতে চামড়া পাচারের কোনও শঙ্কা নেই।’

 

/এসটি/

লাইভ

টপ