বরিশালে পাইকার সংকটে ধস নেমেছে চামড়ার মূল্যে

Send
সালেহ টিটু, বরিশাল
প্রকাশিত : ০০:৫৪, আগস্ট ১৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:০৩, আগস্ট ১৫, ২০১৯

পাইকার সংকটে বরিশালে চামড়া ব্যবসায়ে ধস

ঢাকার চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে বড় অঙ্কের বকেয়া থাকায় অর্থ সংকটে কমে এসেছে বরিশালে পাইকারি চামড়া ব্যবসায়ীর সংখ্যা। যে ক’জন এ ব্যবসা আঁকড়ে আছেন তারাও রয়েছেন মূলধন সংকটে। এর মধ্যে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে লবণের মূল্য ও শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। বেড়েছে যাতায়াত খরচও। কিন্তু ঢাকায় চামড়া পাঠানোর পর টাকা মিলছে না। আর বকেয়া টাকা উত্তোলনে যারা ব্যবসা চালিয়ে রেখেছেন তাদের প্রতি বছর বকেয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর ব্যবসায়ীর সংখ্যা কমে আসায় ইচ্ছামতো কমিয়ে মূল্য হাঁকছেন পাইকাররা। মৌসুমী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ বেশিরভাগ পাইকাররা গা-ঢাকা দিয়ে মাত্র দু’জনকে দিয়ে চামড়া ক্রয় করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পদ্মাবতীর পাইকাররা।

বরিশালে চামড়া ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র নগরীর পদ্মাবতী এলাকা। বিগত বছরের ন্যায় এবারও পশু কোরবানির পরপরই চামড়া পদ্মাবতী এলাকায় আসার পর দাম শুনে হোঁচট খাচ্ছেন মৌসুমী ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায় থেকে চামড়া সংগ্রহকারীরা। কোনোভাবে ব্যবসা মেলাতে না পারায় মৌসুমী ব্যবসায়ীরা লোকসান দিয়ে চামড়া বিক্রি করে আগামী দিনে চামড়া ক্রয় থেকে বিরত থাকার প্রতিজ্ঞা করছেন। আর মাদ্রাসা থেকে চামড়া সংগ্রহকারীরা দাম বাড়ার আশায় লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করছেন।

বরিশালে চামড়া কেনার পর তা ধুয়ে নিচ্ছে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা

একাধিক মৌসুমী ব্যবসায়ী জানান, পদ্মাবতীতে ১০ থেকে ১২ জন পাইকার রয়েছেন। এবার কোরবানির পশুর চামড়া নেওয়ার পর সেখানে মাত্র এক থেকে দু’জন পাইকাররা আড়তে ছিলেন। এছাড়া আর কাউকে পাওয়া যায়নি। এ কারণে ওই দুইজন তাদের ইচ্ছামত দাম বলেছেন। ছাগলের চামড়া ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা করে এবং গরুর চামড়ার দাম ২ থেকে ৩শ’টাকা নির্ধারন করে দেওয়া হয়। পাইকাররা এভাবে সিন্ডিকেট করবে তা আমরা বুঝতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত লোকসান দিয়ে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি। কারণ, আমাদের পক্ষে চামড়া সংরক্ষণ করা সম্ভব ছিল না। অনেকে প্রতিজ্ঞা করেছে আর চামড়া কিনবে না। এদের মধ্যে দুই একজন সকলের সামনে কান ধরেছেন ভবিষ্যতে এ ব্যবসা আর না করার জন্য।

মৌসুমী ব্যবসায়ীদের ওই সকল অভিযোগ অস্বীকার করে পাইকার জাকির হোসেন বলেন, লবণযুক্ত চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দর ৩৫ টাকা ধরা হয় তবে ২০ বর্গফুট চামড়ার দর আসে ৭শ’টাকা। শ্রমিকের মজুরি, লবণ ও পরিবহনসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় করে ওই চামড়ার পেছনে যদি ৪শ’টাকা খরচ হয় তবে মাঠ পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের দেবো কতো আর বিক্রেতারা পাবেন কতো।

তিনি বলেন, এক যুগ আগে ২০ জন চামড়া ব্যবসায়ী থাকলেও গত বছর মাত্র ৫ জন ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রণে এ ব্যবসা ছিল। আর এ বছর ২ জন পাইকার চামড়া কিনছেন। তারা নিজেদের পুঁজি খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছেন। তাদের হিসেব মতে কোরবানি ছাড়া বরিশাল থেকে বছরে ৩৬ হাজার চামড়া ঢাকার ট্যানারিগুলোতে যায়। আর কোরবানিতে বরিশাল থেকে ৩০ হাজার চামড়া ট্যানারিতে পাঠানো হয়। কোরবানির আগে পাইকাররা ঢাকায় গেলেও যাদের ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে ট্যানারিগুলো তাদের মাত্র ১০ হাজার টাকা দিয়েছে। ওই টাকা তো যাতায়াতেই খরচ হয়। এ কারণে পাইকাররা চামড়া ক্রয় থেকে বিরত থাকছেন।

তিনি বলেন, ঢাকায় বকেয়া টাকা আদায়ে সর্বস্বান্ত হয়েও ব্যবসা ধরে রাখতে গিয়ে প্রতি বছর বকেয়ার পরিমাণ বাড়ছে।

জাকির আরও বলেন, ট্যানারি মালিকরা তাদের ব্যবসার জন্য ঋণ পাচ্ছেন, টাকা নেই অথচ বাড়ি-ঘর তুলছেন, অন্য ব্যবসায় পুঁজি খাটাচ্ছেন। আমরা চাই সরকার কোম্পানি, আড়তদার ও বেপারিদের নিয়ে বসুক। তাহলেই বের হয়ে যাবে আসল দোষী কারা।

 

/টিএন/

লাইভ

টপ