কোরবানি পশুর চামড়া গেলো ভাগাড়ে

Send
মাজহারুল হক লিপু, মাগুরা
প্রকাশিত : ০৩:৫৬, আগস্ট ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৪৭, আগস্ট ১৬, ২০১৯

যশোরে চামড়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা হতাশ

লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক চামড়াও সংগৃহীত হয়নি মাগুরা জেলার চামড়া ব্যবসায়ীদের গুদামে। চামড়ার স্বল্পমূল্যের কারণে অনেকে ক্ষোভে চামড়া বিক্রি না করে ভাগাড়ে ফেলে দিয়েছেন। এছাড়া লোকসানে চামড়া বিক্রি করে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের হাত উঠেছে কপালে। এদিকে চামড়ার দাম না থাকায় নিজের বাৎসরিক খরচের ব্যাপারে চিন্তায় পড়েছেন মাদ্রসা, মসজিদ ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ। 

জেলা পশু সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় এবার কোরবানি দেওয়া হয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার পশু। অথচ চামড়া ব্যবসায়ীদের সংগৃহীত চামড়ার পরিমান ১৫ হাজারেরও নিচে। চামড়ার নায্যমূল্য না পেয়ে এবং  আড়তদাররা চামড়া কিনতে অস্বীকৃতি জানানোয় অনেক বিক্রেতায় চামড়া ফেলে দিয়েছেন।

মাগুরা শহরের ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা হামিদুর রহমান জানান, তার কোরবানি দেওয়া একটি ছাগলের চামড়া নিয়ে স্থানীয় একটি আড়তে গেলে আড়তদার তাকে চামড়াটির মূল্য ৩০ টাকা দিতে রাজি হন। অথচ চামড়া বিক্রি জন্য তাকে রিকশা ভাড়া দিতে হয়েছে ৩০ টাকা। তাই মনের দুঃখে তিনি চামড়াটি বিক্রি না করে ভাগাড়ে ফেলে দিয়েছেন।

শহরেরে নান্দুয়ালী এলাকার মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বলেন, ‘স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ২০ হাজার টাকার ঋণ নিয়ে বিভিন্ন বাসা-বাড়ি থেকে চামড়া সংগ্রহ করি। কিন্তু সংগৃহীত চামড়া বিক্রি করে পেয়েছি মাত্র ৬ হাজার টাকা। লাভ তো দূরের কথা, ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব তা নিয়ে চিন্তিত।’

মাগুরা নতুন বাজার এলাকার আড়তদার আব্দুল ওয়াব বলেন, ‘গত বছর আমার সংগৃহীত চামড়া ছিল প্রায় ৮ হাজার পিস, যা এবছর ৩ হাজারেরও নিচে।’  

তিনি আরও বলেন, ‘একটি ছাগলের চামড়ার সর্ব্বোচ মূল্য দিতে পেরেছি মাত্র ৫০ টাকা। কেননা ট্যানারি মালিকের কাছে আমার পাওনা টাকার পরিমাণ ৩০ লাখ টাকা। বারবার তাগাদা দিয়েও তাদের কাছ থেকে ঈদের আগেও টাকা পাইনি। অন্যদিকে,ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার ধর্ণা দিয়েও কোনও ঋণ পাইনি।’  

মাগুরা জেলা চামড়া ব্যবসা সমিতির সভাপতি আবু শরিফ জানান, ট্যানারি মালিকদের কাছে মাগুরার চামড়া ব্যবসায়ীদের পাওনা প্রায় ৪ কোটি টাকা। তারা ঈদের আগে ব্যবসায়ীদের বকেয়া টাকা না দেওয়ায় চামড়া কিনতে ব্যর্থ হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। মাঠ পর্যায়ে চামড়া সংগ্রহ করে আড়তদাররা। আর ট্যানারি মালিকরা সেই সরবরাহকৃত চামড়া ক্রয় করে। অথচ ট্যানারি মালিকরা স্বল্প সুদে ব্যাংক লোন পেলেও ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত। আবার সরকার কাঁচা চামড়া রফতানির যে অনুমোদন দিয়েছে, তা শেষ মুহূর্তে এসে। এই সিদ্ধান্ত  আগে দেওয়া হলে চামড়া ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতো না।

মাগুরা শহরের কলেজ পাড়া এলাকার লিল্লাহ এতিমখানার পরিচালক আব্দুল মমিন জানান, এতিমখানার পরিচালন ব্যয় মূলত কোরবানি পশুর দান করা চামড়া থেকে আসে। গত বছরচামড়ার মূল্য পেয়েছিলাম প্রায় ২ লাখ টাকা, যা এ বছর ৫০ হাজারও পেরোয়নি। এতিমখানা কীভাবে চালাবো জানি না।’



 

 

/এএইচ/

লাইভ

টপ