দাম না পেয়ে গোমতী নদীতে চামড়া ফেললেন ব্যবসায়ীরা

Send
মাসুদ আলম,কুমিল্লা
প্রকাশিত : ০৪:১৩, আগস্ট ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৪:২০, আগস্ট ১৬, ২০১৯

 
কাঁচা চামড়া নদীতে ফেলার দৃশ্য

দাম না পেয়ে হতাশ হয়ে কোরবানির পশুর সংগ্রহ করা কাঁচা চামড়া গোমতী নদীতে ফেলে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থানে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। চামড়ার বাজারে ক্রয়মূল্যের চেয়ে বিক্রয়মূল্য অনেক কম হওয়ায় হতাশা থেকে তারা এই কাজ করেছেন বলে জানা গেছে।

কুমিল্লার সবচেয়ে বড় চামড়া বাজার নগরীর ঋষিপট্টিতে কমে গেছে বেচাকেনা। ঋষিপট্টিতে গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আড়তদাররা চামড়া কিনেছেন খুবই কম।

ব্যবসায়ীরা জানান, পাড়া-মহল্লা থেকে চামড়া সংগ্রহ করে বিক্রি করতে পারেননি। দাম নেই কোথাও। সঠিক দাম না পেয়ে টাকা খরচ করে লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ না করে তা নদীতে ফেলেছেন এবং মাটিতে পুঁতেছেন অনেকে।

ব্যবসায়ীরা জানান, শহরের একটু দূর থেকে ট্রাকে করে চামড়া শহরে এনে বিক্রি করে ট্রাক ভাড়ার টাকাই ওঠেনি কারও কারও। তাই ট্রাকে করে শহরে চামড়া নিয়ে আসা বুড়িচং উপজেলা ও সদরের পাঁচথুবী ইউনিয়নের চামড়া ব্যবসায়ীরা হতাশা প্রকাশ করে ব্রিজ থেকে গোমতী নদীতে কাঁচা চামড়া ফেলে দেন।

এ ব্যাপারে মৌসুমি ব্যবসায়ী শাহালম বলেন, ‘‘গড়ে ছয়শ’ টাকা দরে ২৪৫টি চামড়া কিনেছিলাম। কিন্তু পাইকাররা এখন চামড়া প্রতি দুইশ’ টাকার বেশি দিতে চাইছেন না। তাই হতাশ হয়ে গোমতী নদীতে চামড়া ফেলে দিয়েছি ।’’

মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী রশিদ ১২টি চামড়া নিয়ে কুমিল্লার ঋষিপট্টিতে বিক্রি করতে যান। দাম শুনে চমকে যান তিনি। তার সর্বোচ্চ সাতশ’ টাকা দামের চামড়ার দাম দুই থেকে আড়াইশ’ টাকার বেশি ওঠেনি।

কাঁচা চামড়া নদীতে ফেলার দৃশ্য

একই অবস্থার কথা জানান খুচরা ক্রেতা হাসান। তিনটি চামড়া পাঁচশ’ টাকা করে কিনে চারশ’ টাকা করে বিক্রি করেন তিনি। এভাবেই চামড়া কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হন শতাধিক খুচরা চামড়া ব্যবসায়ী। গরু, মহিষের চামড়া সর্বোচ্চ তিনশ’ টাকা আর ছাগল ও ভেড়ার চামড়া ৫০ থেকে একশ’ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে।

কুমিল্লার ঋষিপট্টির বড় আড়তের স্বত্বাধিকারী রতন ঋষি জানান, ঢাকার চামড়া ব্যবসায়ীরা আগ্রহ না দেখানোয় ঝুঁকি নিয়ে বেশি চামড়া কিনিনি। এছাড়া আগের  বকেয়া টাকা না পাওয়ায় চামড়া কেনা সম্ভব হয়নি।

এদিকে চামড়া সংগ্রহকারী ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে একটি গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরবরাহের তুলনায় পর্যাপ্ত চামড়ার ক্রেতা না থাকায় লবণ দ্বারা চামড়া সংরক্ষণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।  

এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার কুমিল্লার উপপরিচালক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, ‘ঢাকার ট্যানারি মালিকরা বলেছেন, কাঁচা চামড়া কিনবেন। তাই আমরা গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের বলেছি, তারা যেন সংগ্রহকৃত চামড়া লবণ দ্বারা সংরক্ষণ করেন। এছাড়া কেনাবেচায় কোনও ধরণের প্রতারণার শিকার হলে প্রশাসনকে জানাতে।’



/এএইচ/

লাইভ

টপ