ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতেই গলাকেটে হত্যা

Send
চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২২:০৮, আগস্ট ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:২১, আগস্ট ১৮, ২০১৯

পিবিআই এর সংবাদ সম্মেলনচাঁদপুরের স্কুলশিক্ষিকা জয়ন্তি চক্রবর্তীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও তাকে গলাকেটে হত্যার কথা স্বীকার করেছে এ ঘটনায় গ্রেফতার জামাল হোসেন (২৮) ও আনিছুর রহমান (৩২)। তারা পুলিশকে বলেছে,ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতেই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

রবিবার (১৮ আগস্ট) বিকালে চাঁদপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে পিবিআই এর চট্টগ্রাম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন এসব তথ্য জানান।

মো. ইকবাল হোসেন জানান, তদন্ত টিমের জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জামাল ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে ধর্ষণ ও হত্যার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে। ঘটনার দিন দুপুরে জামাল সহযোগী আনিছুরকে সঙ্গে নিয়ে কোয়ার্টারের ভেতরে পরিত্যক্ত একটি স্কুল ঘরে ইয়াবা সেবন করে। পরে জয়ন্তির বাসার ডিশ লাইনের তার নাড়তে থাকে তারা, যেন টিভি দেখতে অসুবিধা হয়। কে তার নাড়ে তা দেখতে জয়ন্তি ঘরের দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে বাসায় ঢুকে জয়ন্তির সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করে আনিছ। জামালও তার সঙ্গে যোগ দেয়। একপর্যায়ে জয়ন্তির মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে তারা। ধর্ষণের পর ভিকটিম ঘটনাটি সবার কাছে বলে দেওয়ার কথা বললে, ক্ষিপ্ত হয়ে জয়ন্তিকে পুনরায় ধরে ঘরের র‌্যাকে থাকা একটা ছোরা দিয়ে জামাল ভিকটিমের গলায় ছুরি চালায়। পরে আনিছ বাথরুম থেকে মগে করে পানি এনে রক্তমাখা ছোরাটি লাশের ওপর ধুয়ে ফেলে এবং ধর্ষণের আলামত বিনষ্টে লাশের শরীরে পানি ঢেলে দেয়। পরে ছোরাটি আগের স্থানে রেখে পালিয়ে যায় তারা।

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, আসামি জামাল হোসেনের দেখানো মতে ওই বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরাটি জব্দ করা হয়েছে। জামাল হোসেন আদালতে তার দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। বিষয়টি এখনও তদন্ত চলছে। আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জামাল হোসেন ও আনিছুর রহমান উল্লেখ্য, চাঁদপুর শহরের ষোলঘরস্থ পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্টাফ কোয়ার্টারের চারতলায় সপরিবারে বাস করতেন অবসরপ্রাপ্ত উচ্চতর হিসাব করনিক অলক গোস্বামীর স্ত্রী ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জয়ন্তি চক্রবর্তী। ২১ জুলাই দিনের কোনও এক সময়ে তাকে গলাকেটে হত্যা করা হয়। ২২ জুলাই নিহতের স্বামী অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের পর পিবিআই’র একটি টিম চাঁদপুর জেলা পুলিশের পাশাপাশি তদন্তে নামে। এ সময় অধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও বিজ্ঞান ভিত্তিক সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার ডিস ব্যবসার দুই লাইনম্যানকে সন্দেহ করা হয়। তারা হলো শহরের বিটি রোড় এলাকার মৃত জাবেদ উল্লাহর ছেলে ডিসের লাইনম্যান জামাল হোসেন (২৮) ও ষোলঘর পাকা মসজিদ এলাকার আলী হোসেন গাজির ছেলে ডিসের মহাজন আনিছুর রহমান। একপর্যায়ে পিবিআই’র সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ তাদের আটক করে আদালতে পাঠায়। পরে চাঞ্চল্যকর একটি হত্যা মামলা হিসেবে তদন্ত কার্যক্রম পিবিআইয়ের হাতে আসে। ৪ আগস্ট মামলার নথি পিবিআই এর তদন্তকারী অফিসারের কাছে হস্তান্তর করা হলে, পিবিআইয়ের একটি টিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন—অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শংকর কুমার দাস, ইন্সপেক্টর কবির আহমদ, মীর মাহবুবুর রহমান, মো. বাচ্চু মিয়া, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শহীদ পাটোওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর প্রমুখ।

 

/আইএ/

লাইভ

টপ