চাঁদপুরে ইলিশ শিকারি জেলেদের নৌকা নিবন্ধন

Send
চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩:১৪, আগস্ট ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:২৩, আগস্ট ১৮, ২০১৯

চাঁদপুরে ইলিশ শিকারি জেলেদের নৌকা নিবন্ধনজাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় এবং সংশ্লিষ্ট জেলেদের সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ইলিশ শিকারি জেলেদের নৌকার নিবন্ধন শুরু হয়েছে। রবিবার (১৮ আগস্ট) চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা প্রশাসন, ইকোফিশ প্রকল্প ও উপজেলা মৎস্য দফতর জেলেদের নৌকা নিবন্ধন করে। পরে পর্যায়ক্রমে সারাদেশের ইলিশ শিকারি জেলেদের নৌকার নিবন্ধন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী জানান, আমরা সরকারের কাছে চাঁদপুরের জেলেদের নৌকা নিবন্ধনের সুপারিশ করেছি। এরই ধারাবাহিকতায় পরীক্ষামূলকভাবে মতলব উত্তর উপজেলায় জেলেদের নৌকা নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখানে সফলতা পেলে জেলার অন্য উপজেলার জেলেদের নৌকাও নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। এরপর সরকার যদি চায় তাহলে সারাদেশের জেলেদের নৌকা নিবন্ধন করতে পারে।

ইকোফিশ প্রকল্পের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর এসএম আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘রবিবার উপজেলার বাবু বাজার, ষাটনল ইউনিয়নের আওতায় মেঘনা নদীতে মাছ ধরায় নিয়োজিত নৌকাগুলোর আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এখানে ইলিশ শিকারে ব্যবহৃত ১০০ নৌকা নিবন্ধন করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘ইলিশ জেলেদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় আনার জন্য এটি একটি পাইলট প্রকল্প। জেলেদের নৌকাগুলো নিবন্ধিত হলে কোন নৌকা কী ধরনের জাল ব্যবহার করছে এবং কী কার্যক্রম করছে তা মনিটরিং করা অনেকটাই সহজ হবে। এছাড়া ইলিশ সম্পদ রক্ষায় সরকারি আদেশ-নিষেধ মেনে চলতে জেলেদের সচেতনও করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘মৎস্যজীবী পরিবারের বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে প্রকৃত মৎস্যজীবী পরিবারের সদস্যদের সেলাই মেশিন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, হাঁস-মুরগি- গবাদী পশু পালন, শাকসবজি চাষসহ বিভিন্ন কাজে আমরা সহযোগিতা করছি। মা ইলিশ রক্ষা এবং জাটকা শিকার বন্ধে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

নৌকা নিবন্ধন কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, ‘ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং আমাদের গর্ব। এই সম্পদের সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন টেকসই ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা। আমারা জানি, প্রকৃত মৎস্যজীবীদের তালিকা তৈরি হয়েছে। হালনাগাদও করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মাছ আহরণ কাজে নিয়োজিত নৌকাসমূহের নিবন্ধন করা হচ্ছে। আশা করি, পর্যায়ক্রমে সারাদেশে পদ্মা ও মেঘনা নদীতে ইলিশ ও অন্যান্য মাছ আহরণে জড়িত নৌকা নিবন্ধনের আওতায় আসবে এবং আমরা সত্যিকার অর্থেই একটি টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারবো। নদী সবার, তাই দায়িত্বও সবার। আমি মৎস্যজীবী, আড়তদার, ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ইলিশ সম্পদ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—মতলব উত্তর উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুস, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, আড়তদার, মহাজন ও স্থানীয় মৎস্যজীবীরা।

 

/আইএ/

লাইভ

টপ