ট্রেনের গতি কমানোয় শিডিউল বিপর্যয়, যাত্রীদের ভোগান্তি

Send
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১:২৭, আগস্ট ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫৭, আগস্ট ১৯, ২০১৯

শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে যাত্রীরা

রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী প্রতিটি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে ঈদের পর কর্মস্থলে ফিরতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। ঢাকাগামী প্রতিটি ট্রেন ছাড়তে ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা বিলম্ব হচ্ছে। এছাড়া রাজশাহী থেকে চিলাহাটিগামী ও খুলনাগামী ট্রেন দুটোও বিলম্বে ছেড়েছে। এ ব্যাপারে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি, মাত্রাতিরিক্ত যাত্রীর কারণে ট্রেনের গতি কমিয়ে আনা হয়েছে। তাই ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটছে। যাত্রীদের চাপ কমলেই ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

রাজশাহী রেলস্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ভয়াবহ শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে রবিবার সকাল ৭টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিল্কসিটি এক্সপ্রেস সাড়ে ৬ ঘণ্টা পর দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে রাজশাহী এসে পৌঁছায়। এর আগের দিন শনিবার রাতে ধূমকেতু ট্রেনটি ১১টা ২০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও ৮ ঘণ্টা বিলম্বে রবিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ছাড়ে। শনিবার বিকাল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে আন্তঃনগর ট্রেন পদ্মা এক্সপ্রেস ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তা ছয় ঘণ্টা বিলম্বে রাত ১০টার দিকে ছাড়ে। রবিবার বিকাল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও পদ্মা এক্সপ্রেসটি রাত ১২টা পর্যন্ত ছাড়েনি। এছাড়া রাত ১১টা ২০ মিনিটের ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভোর ৪টার দিকে ছাড়ার কথা ছিল। রাত ১০টার দিকে কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার আব্দুল করিম এসব কথা জানান।

অন্যদিকে শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে যাত্রীরা ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়ছেন। নির্ধারিত সময় স্টেশনে আসার পর তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কারণ কখন ট্রেন ছাড়বে তার কোনও ঠিক নেই। ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে যাচ্ছেন মোখলেসুর রহমান। নির্ধারিত সময়ে স্টেশনে এসে শুনেন তার ট্রেন লেট। আট ঘণ্টা ধরে রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করছেন।

এ ব্যাপারে পশ্চিমাঞ্চলের রেলওয়ের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার এএএম শাহ নেওয়াজ জানান, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ছাড়তে হচ্ছে প্রতিটি ট্রেন। ভেতরে যাত্রী উপচে পড়ছে। ছাদও ফাঁকা নেই। এখন যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ও দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রেনের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই নির্ধারিত সময়ে ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছাতেও পারছে না, আসতেও পারছে না। এ কারণেই ভয়াবহ শিডিউল বিপর্যয় ঘটছে।

তিনি আরও বলেন, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সিঙ্গেল লাইন, যতদিন ডাবল না হবে ততদিন ট্রেনের শিডিউল ঠিক রাখা কঠিন। কেননা এক লাইনে একাধিক ট্রেন চলাচল করে। তাছাড়া বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে একটি ট্রেন ধীর গতিতে চলে যাওয়ার পর অন্যটি সিগন্যাল পায়। রাজধানীতে ফেরার পথে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপে কোথাও কোথাও একেবারেই গতি কমিয়ে ট্রেন চালাতে হচ্ছে। সে কারণে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় কাটছে না।

/জেবি/এমএমজে/

লাইভ

টপ