বগুড়ায় দুই লাখ কোরবানির পশুর চামড়ার হদিস মিলছে না

Send
মো. নাজমুল হুদা নাসিম, বগুড়া
প্রকাশিত : ১২:৫০, আগস্ট ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:১১, আগস্ট ২০, ২০১৯

কোরবানির পশুর চামড়াবগুড়ায় এ বছর সোয়া তিন লাখেরও বেশি পশু কোরবানি করা হয়েছে। তবে কোরবানির পর এক সপ্তাহে ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনেছেন দেড় লাখের মতো। আর পৌনে দুই লক্ষাধিক চামড়ার হদিস মিলছে না। চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, মূল্য বৃদ্ধির আশায় কিছু ব্যবসায়ী অল্প পরিমাণ চামড়া লবণ দিয়ে রেখেছেন। এছাড়া বগুড়ায় মূল্য না পাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী অনেক চামড়া পাশের জেলা নাটোর, গাইবান্ধা ও সিরাজগঞ্জে বিক্রি করেছেন।

বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, ‘এবারের ঈদের আগে জেলায় তিন লাখ ৮৮ হাজার গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া কোরবানির উপযোগী ছিল। সেখানে কোরবানি করা হয়েছে তিন লাখ ২৬ হাজার ৬৮৯টি পশু। এর মধ্যে গরু এক লাখ ৯৫ হাজার, ছাগল এক লাখ ৯ হাজার, ভেড়া ২২ হাজার ৪২১ ও মহিষ ২৬৮টি।’ তিনি আরও বলেন, ‘চামড়ার হিসাব আমাদের কাছে নেই। এটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন।’

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়ায় এবার কোরবানির পশুর চামড়া পানির দরে বিক্রি হয়েছে। গরুর চামড়া ১০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা এবং ছাগল-ভেড়ার চামড়া বিক্রি হয়েছে ৫ টাকা থেকে ২০ টাকা দরে। এরপরও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের নিজের পুঁজি দিয়ে চামড়া কিনে তা বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হয়েছে।

বগুড়ার শেরপুরের চামড়া ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার ভাট জানান, ‘এ উপজেলায় চামড়া সংরক্ষণের ছয়টি গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে আবদুল লতিফ লাল মিয়া ১৫ হাজার পিস ও অন্যরা সবমিলিয়ে আরও ১৫ হাজার পিস চামড়া কিনে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করেছেন। এছাড়া সদর বাদে অন্য ১০ উপজেলায় আরও ৩০-৪০ হাজার পিস চামড়া সংরক্ষণ করা হতে পারে।’

বগুড়া শহরের চকসুত্রাপুর এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম জানান, তিনি এবার ঈদে ২৭৫ পিস চামড়া কিনেছেন। প্রতি পিস ৩০০ থেকে ৭০০ টাকায় কেনেন। প্রতি পিস ১০০ থেকে দেড়শ টাকা লাভে আড়তদারের কাছে বাকিতে বিক্রি করেছেন। আবুল সরকার নামে এক ব্যবসায়ী জানান, পুঁজির অভাবে তিনি এবার চামড়া কিনতে পারেননি।

বগুড়া জেলা চামড়া ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন সরকার জানান, পুরো জেলায় তাদের ৩৮৭ জন সদস্য রয়েছেন। এদের মধ্যে তিনিসহ ২০-২৫ জন মালিক ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে গত তিন বছরের বিল কমপক্ষে ৩৫ কোটি টাকা পাবেন। তবু জেলার সব ব্যবসায়ী মিলে রবিবার (১৮ আগস্ট) পর্যন্ত দেড় লক্ষাধিক চামড়া কিনেছেন। এখনও কিছু খুচরা ব্যবসায়ী লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করছেন। তারা পরে বিক্রি করবেন।

পৌনে দুই লক্ষাধিক চামড়ার হদিস না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেক ব্যবসায়ী চামড়া পার্শ্ববর্তী নাটোর, গাইবান্ধা ও নওগাঁ জেলায় বিক্রি করেছেন। তবে এর সঠিক হিসাব নেই। পরবর্তী সময়ে এসব চামড়া বগুড়ায় আসবে।’

চামড়ার দর পতন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ট্যানারি মালিকরা টাকা না দেওয়ায় আমরা এবার ঠিকমতো চামড়া কিনতে পারিনি। ফলে চামড়ার দাম পড়ে যায়। আমরা প্রতি পিস গরুর চামড়া ৬০০ থেকে হাজার টাকায় কিনেছি। এছাড়া খাসি ৩০ থেকে ৫০ টাকায় কিনেছি। তবে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা আরও কম দামে চামড়া কিনেছেন। ফলে কোরবানিদাতারা চামড়ার প্রকৃত মূল্য পাননি। এছাড়া প্রতি পিস চামড়ায় আমাদের শ্রমিক ও লবণ খরচ পড়েছে ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা।’

 

/এফএস/এমএমজে/

লাইভ

টপ