ছেলেধরা সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে বেঁধে পিটুনি

Send
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৮:০৫, আগস্ট ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০৯, আগস্ট ২০, ২০১৯

এই সেই মানসিক ভারসাম্যহীন নারী

ছেলেধরা সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে বেঁধে পেটানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) দুপুরে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ত্রিমোহনী বাজারে এই ঘটনা ঘটে। পরে ৯৯৯ নম্বর থেকে ফোন পেয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় নেয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে ত্রিমোহনী বাজার জামে মসজিদের পেছনে জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ব্যাক্তির বাসায় যান মানসিক ভারসাম্যহীন ওই  নারী। এসময় ওই বাসার ভাড়াটিয়া তারা মিয়ার শিশু কন্যার হাত ধরে টান দেন তিনি। এসময় শিশুটি চিৎকার দিলে বাসার লোকজন বেড়িয়ে এসে ওই  নারীকে ধাওয়া করে। ধাওয়া খেয়ে ওই  নারী দৌড় দিলে তারা মিয়া তাকে আটকে ত্রিমোহনী বাজারের একটি দোকানের খুঁটিতে বেঁধে পেটান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কিছু প্রত্যক্ষদর্শী এসময় ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে ছেলেধরা আটক করা হয়েছে বলে পুলিশকে জানান।  এরপর কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই  নারীকে উদ্ধার করে।

কুড়িগ্রাম সদর থানায় গিয়ে দেখা গেছে, ডিউটি অফিসারের রুমের মেঝেতে কম্বল গায়ে শুয়ে বিলাপ করছেন ওই নারী। তাকে পেটানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করছিলেন তিনি। নাম জিজ্ঞাসা করলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেছেন। কয়েকবার জিজ্ঞাসার পর তিনি নিজেকে রেজিয়া পারভীন নামে পরিচয় দেন। বাড়ির ঠিকানা জিজ্ঞাসা করলে কখনও নাটোরের শিঙড়া আবার কখনও গোবিন্দ নগর বলে জানান।  আচরণে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হচ্ছে বলে জানান থানায় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা।

কুড়িগ্রাম সদর থানার ডিউটি অফিসার ও পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএেআই) মো.সোহেল রানা জানান, তার পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পরিচয় পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মো. মাহফুজার রহমান জানান, ‘ওই নারীকে দেখে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে মনে হচ্ছে। তাকে ছেলে ধরা সন্দেহে আটকে রাখা হয়েছিল। তবে তাকে বেঁধে পেটানোর কোনও অভিযোগ পাইনি।’

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন,‘আমরা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের খবর দিয়েছি। তাদের সাথে পরামর্শ করে ওই  নারীর বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

 

/এএইচ/

লাইভ

টপ