রেলের বগিতে আসমার লাশ বাঁধনকে ধরলেই জানা যাবে সব, দাবি পরিবারের

Send
সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, পঞ্চগড়
প্রকাশিত : ১৯:১৮, আগস্ট ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫৮, আগস্ট ২০, ২০১৯

আসমা খাতুন

ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে একটি পরিত্যক্ত বগি থেকে আসমা খাতুনের (১৭) মরদেহ উদ্ধারের খবরে তার পঞ্চগড়ের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) তার মা শেফালি খাতুন বলেন, ‘পাশের গ্রামের মারুফ হাসান বাঁধন নামে এক ছেলের সঙ্গে আসমার সম্পর্ক ছিল বলে জানতে পেরেছি। রবিবার সকালে তার সঙ্গেই সে চলে যায় এবং সোমবার কমলাপুরে তার লাশ উদ্ধার হয়েছে। এরপর থেকে বাঁধনের মোবাইল ফোনও বন্ধ। তাকে আটক করলেই আসমা হত্যার বিস্তারিত জানা যাবে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাঁধনের মা বিলকিস বেগম। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে ফাঁসানোর জন্য এমনটা বলা হচ্ছে। রবিবার সকালে প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছে সে। এরপর আর ফেরেনি।’ বর্তমানে বাঁধন কোথায় আছে তা তারা জানেন না বলেও জানিয়েছেন।

পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, পাশের গ্রামের ভুট্টো তায়ারের ছেলে বাঁধনের সঙ্গে আসমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রবিবার সকালে আসমার মা-বাবা কাজের জন্য বাইরে গেলে বাবার ভোটার আইডি কার্ড ও জন্মনিবন্ধন নিয়ে নিখোঁজ হয় আসমা। একই সময়ে বাঁধনও নিখোঁজ হয়। স্থানীয়দের সন্দেহ, বাঁধনই আসমাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। কমলাপুরে দুজনই কোনও চক্রের হাতে পড়ে এবং আসমা খুন হয়। অথবা বাঁধনের সঙ্গীরা আসমাকে খুন করতে পারে বলে সন্দেহ এলাকাবাসীর।

পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী জানান, ‘ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘটনাটি ঘটেছে। নিয়ম অনুযায়ী সেখানকার রেল পুলিশ মামলা গ্রহণ এবং তদন্ত করছে। যেহেতু নিহতের বাড়ি পঞ্চগড়ে, এজন্য তদন্তের সময় আমাদের সহায়তার প্রয়োজন হবে। আমরা ছায়াতদন্ত করছি এবং তদন্ত কর্মকর্তাকে সহায়তা করছি। কিছু আলামতও পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না।’

এদিকে আসমার বাড়িতে শোক ও সমবেদনা জানাতে গিয়েছেন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল হক প্রধান, জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী।

প্রসঙ্গত, সোমবার সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে ময়মনসিংহগামী বলাকা কমিউটার ট্রেনের একটি পরিত্যক্ত বগির শৌচাগার থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আসমা খাতুনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার বাড়ি পঞ্চগড় জেলা সদরের শিংপাড়া এলাকার কনপাড়া গ্রামে। সে ওই গ্রামের ভ্যানচালক আবদুর রাজ্জাকের দ্বিতীয় মেয়ে।

 

/এএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ