বাঘারপাড়া ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

Send
যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:৪০, আগস্ট ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫২, আগস্ট ২০, ২০১৯

মামলার আসামি বাঘারপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বায়েজিদ হোসেন

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বায়েজিদ হোসেনের বিরুদ্ধে দিনমজুর এক যুবককে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার বাঘারপাড়া থানায় একটি মামলা হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা নাকচ করে দিয়েছেন বায়েজিদ হোসেন।

স্থানীয় সূত্র, পুলিশ ও অপহৃত যুবকের মায়ের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রেমঘটিত একটি ঘটনার জের ধরে সোমবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে সাকিবুল (২০) নামে এক যুবককে বাঘারপাড়া ছাত্রলীগ-যুবলীগের কয়েকজন কর্মী মাগুরার শালিখা তেল পাম্পের কাছ থেকে অপহরণ করে। এরপর তাকে বাঘারপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় রউফ সুপার মার্কেটের একটি ঘরে আটকে রাখে। পরে তার কাছ থেকে মোবাইলফোন সেট নিয়ে দিনাজপুরে তার মায়ের কাছে ফোন দিয়ে মুক্তিপণ বাবদ ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে ওইদিন সন্ধ্যায় বাঘারপাড়া পুলিশ সেখানে হানা দিয়ে সাকিবুলকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়।

যোগাযোগ করা হলে মেয়ের মামাতো ভাই যুবলীগ কর্মী হাদি সরদার এ প্রতিনিধিকে বলেন, ‘সাকিবুলের সঙ্গে আমার ফুফাতো বোনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাঝে তাদের মধ্যে কলহ হলে সেই সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়। এরপর সাকিবুল ফেসবুকে আমার বোনকে নিয়ে আপত্তিকর কথা ও ছবি পোস্ট করতে থাকে। গতকাল (১৯ আগস্ট) সাকিবুলকে বাঘারপাড়ায় আসতে বলা হয় ফোন থেকে সেইসব ছবি ডিলিট করানোর জন্যে। এরপর তাকে উপজেলা ছাত্রলীগের অফিসে বসে সেগুলো ডিলিট এবং তার কাছে আমার বোনের বিভিন্ন সময়ে দেওয়া ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা ফেরত চাওয়া হয়। এরইমধ্যে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।’

যোগাযোগ করা হলে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মধ্যপাড়ায় বসবাসকারী সাকিবুলের মা এ প্রতিনিধিকে বলেন, ‘আমার ছেলে মাগুরায় রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করে। বাঘারপাড়ায় এক মেয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। তাকে মেয়ের ভাইরা ধরে নিয়ে আটকে রাখে।বিকালের দিকে সাকিবুলের ফোন থেকে আমাকে কল দিয়ে প্রথমে ৫০ হাজার, পরে ৪০ হাজার এভাবে শেষে তারা ২০ হাজার টাকা দাবি করে। আমরা ৫ হাজার টাকা দিতে রাজি হলেও তারা বিকাশে ২০ হাজার টাকা পৌঁছে দিতে শাসায়। আমরা গরিব মানুষ, সাকিবুলের বাবা নজরুল ইসলামও দিনমজুরি করেন। এতো টাকা আমরা দিতে পারবো বলে তাদের জানিয়েছি।’

জানতে চাইলে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বায়েজিদ হোসেন বলেন, ‘১৯ আগস্ট দিনভর আমি উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে জাতীয় শোকদিবসের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত কর্মসূচিতে ছিলাম। মার্কেটের যে কক্ষে ছেলেটিকে নিয়ে সালিশ করা হচ্ছিল, সেটি উপজেলা ছাত্রলীগের অফিস। ছেলেটিকে যারা ওই ছেলেটিকে নিয়ে গেছিল, তারা মেয়েটির ভাই-বেরাদর। অবশ্য তারা আমাদের দল করে। কিন্তু এই ঘটনার সঙ্গে আমার ন্যূনতম কোনও সম্পৃক্ততা নেই।’

এসব বিষয়ে বাঘারপাড়া থানার ওসি জসীম উদ্দিন বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশের কাছে খবর আসে, এক যুবককে মার্কেটের একটি দোকানে আটকে তার কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। এরপর পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে সাকিবুল নামে ওই যুবককে উদ্ধার করে এবং সেখানে থাকা লোকজন তখন পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় সাকিবুল বাদী হয়ে বাঘারপাড়া থানায় অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ এনে একটি মামলা করেছে। মামলায় বায়েজিদ হোসেন, হাদি সরদার, রাসেল ও লিংকনের নামোল্লেখসহ তিন-চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।’

মঙ্গলবার বিকালে সাকিবুলকে নিরাপত্তা হেফাজতের জন্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

 

/এফএস/

লাইভ

টপ