প্রশাসনের অনিয়ম নিয়ে কথা বলায় শিক্ষা ছুটি পেলেন না হাবিপ্রবি’র শিক্ষক!

Send
দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১:৩৭, আগস্ট ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫৪, আগস্ট ২৩, ২০১৯

হাবিপ্রবির শিক্ষক শক্তি চন্দ্র মন্ডলপ্রশাসনের বিভিন্ন অনিয়ম সম্পর্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথায় দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শিক্ষক শক্তি চন্দ্র মন্ডল পিএইচডির জন্য শিক্ষা ছুটিতে যাওয়ার অনুমতি পাননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, ওই শিক্ষক যেসব অভিযোগ করেছেন তার ব্যাখ্যা দেওয়ার পরই অনুমতির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড প্রসেসিং অ্যান্ড প্রিজারভেশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শক্তি চন্দ্রের বিদেশে যাওয়ার কথা ছিল বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট)। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে অনুমতি না দেওয়ায় ওইদিন তিনি অনশন শুরু করেন। পরে অসুস্থ পড়লে তাকে বিশ্বববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

জানা যায়, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে ৫ জন শিক্ষককে পিএইচডি করার স্কলারশিপ দিয়েছে কোরিয়া সরকার। যাদের একজন অধ্যাপক শক্তি চন্দ্র মন্ডল। 

শক্তি চন্দ্র বলেন, ‘দুই মাস আগে আমি কোরিয়া সরকারের স্কলারশিপ পেয়েছি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর ৬ আগস্ট জিও (সরকারি আদেশ) ও ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য আবেদন করি। ছাড়পত্র ও সংশোধিত জিও না দেওয়ায় আমি কোরিয়ায় যেতে পারছি না। আমার ফ্লাইট ছিল বৃহস্পতিবার। এরই মধ্যে আমি একটি চিঠি পেয়েছি যেখানে বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলায় আমাকে জিও দেওয়া হচ্ছে না। এর যথাযথ ব্যাখ্যা দেওয়ার পর বিদেশে যাওয়ার অনুমতিসহ জিও দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাকে বিদেশে যেতে না দিলে আমার ক্ষতির পাশাপাশি দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। এছাড়া আগামীতে বাংলাদেশ থেকে স্কলারশিপ বন্ধও করে দিতে পারে কোরিয়ান সরকার।’

এ ব্যাপারে জানতে হাবিপ্রবি’র রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ডা. ফজলুল হক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি যাতে অক্ষুণ্ন রাখা সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্ব। শক্তি চন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করেছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এসব অভিযোগের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ব্যাখ্যা দিলেই তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতিসহ জিও দেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, ২৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, প্রশাসনে জামায়াতিকরণ এবং বিতর্কিত ও আঞ্চলিকতামূলক সিদ্ধান্তের কারণ দেখিয়ে ৭ জন শিক্ষক তাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করে চিঠি দেয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সহকারী প্রক্টর সৌরভ পাল চৌধুরী, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সহকারী হল সুপার ফরিদুল্লাহ এবং ডরমিটরি-২-এর সহকারী হল সুপার শক্তি চন্দ্র মন্ডলকে তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। এছাড়া সংবাদ সম্মেলন করা, প্রশাসনের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তকর তথ্য প্রদান করা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তকর তথ্য প্রকাশ করায় কারণ দর্শাতে বলা হয়।

 

 

 

/এসটি/

লাইভ

টপ