বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের মামলায় ছাত্রলীগের ৩ নেতাকর্মী গ্রেফতার

Send
রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:৪৭, আগস্ট ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৫৩, আগস্ট ২৪, ২০১৯





বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পুলিশ মোতায়েনরংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) দুটি হলে হামলা এবং বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর করে পদদলিত করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তিন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দু’টি গ্রুপ পাল্টাপাল্টি মহড়া দিয়েছে। তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ রোকনুজ্জামান এসব তথ্য জানান।

গ্রেফতার তিনজন হলেন—কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ও বেরোবি ছাত্রলীগের নেতা ফয়সাল আজম ফাইন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুব্রত ঘোষ ও ফিরোজ মিয়া। ফিরোজ স্থানীয় সর্দারপাড়ার বাসিন্দা ও ফাইনের সহযোগী বলে পুলিশ জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে তুষার কিবরিয়াকে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ও নোবেল শেখকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করে দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। তিন বছর পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি ওই কমিটি। এই পরিস্থিতিতে বেশ কিছুদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি বাতিল করে নতুন করে কমিটি গঠনের দাবি করে আসছে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা ফয়সল আজম ফাইনের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ। বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধসহ ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেছে তারা। এতে করে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ফাইনের নেতৃত্বে একটি ও তুষার কিবরিয়ার নেতৃত্বে অপর গ্রুপ ক্যাম্পাসে শোডাউন দিয়ে আসছে।
জানা যায়, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার কর্মসূচি পালন করা নিয়ে তুষার কিবরিয়ার গ্রুপের সঙ্গে ফাইন গ্রুপের বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই দিন রাতে ফাইন গ্রুপের কর্মীরা ছোরা-রামদাসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রকাশ্য মহড়া দেয়। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও শহীদ মুখতার এলাহী হলে হামলা চালায় এবং বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ করেন তুষার কিবরিয়ার গ্রুপের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় গত ২৩ আগস্ট তাজহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি তুষার কিবরিয়া। মামলায় ফাইনকে প্রধানসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরও আসামি করে মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলায় শহীদ মুখতার এলাহী হলে তার নিজ কক্ষে ভাঙচুর করে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের অভিযোগ করা হয়। এছাড়া তার কক্ষে লুটপাটেরও অভিযোগ করা হয়। ওই মামলায় শনিবার পুলিশ তিন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে।
ওই তিনজনকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে শনিবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে ফাইন গ্রুপের সমর্থকরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ-মিছিল করে। পরে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এদিন তুষার কিবরিয়ার সমর্থকরাও ক্যাম্পাসে পাল্টা বিক্ষোভ-মিছিল করে। উভয়পক্ষ প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয় বলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন।
মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল আজম ফাইনতাজহাট থানার ওসি শেখ রোকনুজ্জামান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি তুষার কিবরিয়ার দায়ের করা মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছি। তাদের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তুষার কিবরিয়া বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার জন্য ফাইনকে দায়ী করে ওই মামলা করা হয়েছিল।’ কিবরিয়া গ্রুপের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অস্ত্র হাতে মহড়া দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, ‘ফাইন গ্রুপের নেতাকর্মীরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা করছে।’

এদিকে, গ্রেফতার ফয়সাল আজম ফাইন, সুব্রত ঘোষ ও ফিরোজ মিয়ার পক্ষে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করে কাউকে পাওয়া যায়নি।

 

/আইএ/এমএমজে/

লাইভ

টপ