দিনাজপুরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর একজনকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

Send
দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২১:৪২, আগস্ট ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:১৬, আগস্ট ২৪, ২০১৯

সংবাদ সম্মেলনে স্বপন এক্কাদিনাজপুরের বিরলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর একজনকে তিন দিন আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে। শনিবার (২৪ আগস্ট) সকালে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নেতা স্বপন এক্কা। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান তার কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সই করে নেন বলে অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে স্বপন এক্কা লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘গত ৯ আগস্ট বিরল উপজেলার ৮ নম্বর ধর্মপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাবুল চন্দ্র সরকার ১০-১২ জন সন্ত্রাসীকে পাঠিয়ে ১০ নম্বর রানীপুকুর ইউনিয়নের নিমতলা বাজার থেকে আমাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। ১১ আগস্ট পর্যন্ত অন্ধকার ঘরে বন্দি রেখে আমাকে চরম নির্যাতন করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নন-জুডিশিয়াল ফাঁকা স্ট্যাম্পে সই করে নেন। পরে আমার স্ত্রী স্থানীয় সাংবাদিকের মাধ্যমে বিষয়টি ইএনও মহোদয়কে জানালে ইউএনও মহোদয়ের ফোনে তিনি আমাকে ছেড়ে দেন। তা না হলে হয়তো আমাকে মেরেই ফেলতো।’

ছাড়া পেয়ে গত ১৪ আগস্ট দিনাজপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (বিরল) ৯ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন স্বপন এক্কা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে চেয়ারম্যানের চান, আমি ও আমার পরিবার-পরিজন সহায়সম্পদ ছেড়ে দেশ থেকে পালিয়ে যাই। এরপর তিনি আমার সম্পদ ভোগ-দখল করবেন। তিনি আমাকে নানা কায়দায় দেশত্যাগে বাধ্য করতে চেষ্টা করছেন। আমি চেয়ারম্যানকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন– বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি তারক কবিরাজ, কিষানী সভা দিনাজপুর শাখার সভাপতি সাবিহা বেগম, প্রাক্তন ইউপি মেম্বার মাধব চন্দ্র সরকার ও অবাইদুর রহমান প্রমুখ।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান সাবুল চন্দ্র রায় বলেন, ‘স্বপন এক্কা ও তার সহযোগী বিভিন্ন মানুষের কাছে বিদেশে পাঠানোর নামে লাখ লাখ টাকা নিয়েছেন। কিন্তু কোনও কাজ না হওয়ায় ভুক্তভোগীরা তাকে লিখিত অভিযোগ করেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে নোটিশ করা হলেও তিনি আসেননি। এই কারণে তাকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আনা হয়।  কিন্তু পরের দিনই তাকে ১০ নম্বর ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনি বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকারও করেছেন। তাকে কোনও নির্যাতন করা হয়নি।’  

/এমএএ/

লাইভ

টপ