মাছের পোনা নিয়ে যত জটিলতা

Send
মোহাম্মদ নূর উদ্দিন, হবিগঞ্জ
প্রকাশিত : ২২:১৯, আগস্ট ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:২৯, আগস্ট ২৪, ২০১৯

মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়সরকারিভাবে মাছের পোনা কেনা ও অবমুক্তকরণ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ খলিলুর রহমান। শুক্রবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে তিনি ফেসবুকে এই পোস্ট দেন। গভীর রাতে আবার পোস্টটি সরিয়ে নেন। এ নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।

বাহুবল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ খলিলুর রহমানের  কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পোনা অবমুক্তকরণের জন্য বরাদ্ধ আসে এক লাখ টাকা। এই টাকায় ৩৩৪ কেজি মাছের পোনা কেনা যায়। বরাদ্ধ পাওয়ার পরই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নামমাত্র পোনা অবমুক্ত করার পরিকল্পনা নেন। এ বিষয়টি তিনি বিভিন্ন জনের কাছ থেকে জানতে পারেন। মৎস্য কর্মকর্তাকে সতর্ক করার জন্য বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) উপজেলা মাসিক উন্নয়ন সভায় আলোচনাও করেন।’

উপজেলা চেয়ারম্যান দাবি করেন, ৩৩৪ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করার কথা থাকলেও মাত্র ৩০ কেজি পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। বাকি ৩০৪ কেজি পোনা আত্মসাৎ করেছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা। শুক্রবার সকালে পোনা অবমুক্ত করার আগেই তিনি জানতে পারেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরাদ্ধের চেয়ে কম পোনা এনেছেন। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার দুর্নীতির বিষয়টির আঁচ করতে পেরে তিনি পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠান বয়কটও করেন।

ফেসবুকের পোস্ট সরিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, ‘উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের অনুরোধে আমি ফেসবুক পোস্ট তুলে নিয়েছি।’

বাহুবল উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ খলিলুর রহমান ফেসবুকে অভিযোগ করেন ‘মাছের পোনা অবমুক্ত প্রসঙ্গে দ্বিমত! আজ (শুক্রবার) বাহুবল উপজেলায় এক লাখ টাকার ৩৩৪ কেজি মাছের পোনা জলাশয়ে অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত ছিল, কিন্তু মৎস্য কর্মকর্তা আত্মসাৎ করার পায়তারা করেন। পরে এমপিকে সঙ্গে নিয়ে দীননাথ সরকারি মডেল হাই স্কুলের পুকুরে ৫ কেজি, বাহুবল মাদ্রাসার পুকুরে ৫ কেজি ও করাঙ্গী নদীতে ৫ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করেন। কালাপুর আশ্রয়নকেন্দ্রের পুকুরে মাছের পোনা ছাড়তে গেলে ৫০ কেজি বলা হয়, সেখানে আমার প্রতিনিধি আগে থেকে ছিল, সে চ্যালেঞ্জ করলে ওজন করা হয়; তখন ১৫ কেজি পোনা পাওয়া যায়। মোট ৩০ কেজি পোনা পুরো উপজেলায় অবমুক্ত করা হয়। এমপিকে সঙ্গে নিয়ে বাকি পোনা অবমুক্ত করার কথা। কিন্তু, তিনি যাননি এই সুযোগে মৎস্য কর্মকর্তা আর কোথাও মাছের পোনা অবমুক্ত করেননি। এমনকি কালাপুরে আমার প্রতিনিধি ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধি ছিল না। গুঙ্গিয়াজুরি হাওরে কোনও পোনা অবমুক্ত করা হয়নি। ৩০৪ কেজি পোনা মাছ মৎস কর্মকর্তা আত্মসাৎ করেছেন।’

অভিযোগের প্রসঙ্গে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দিন আফজাল বলেন, ‘নীতিমালা অনুযায়ী ৩৩৪ কেজি পোনা সরকারি খামার থেকে কিনে অবমুক্ত করা হয়েছে, এখানে কোনও দুর্নীতি করা হয়নি।’

উপজেলা চেয়ারম্যানের অভিযোগবাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আয়েশা হক বলেন, ‘উপজেলায় মাছের পোনা নিয়ে কোনও ধরনের দুর্নীতি হয়নি। নীতিমালা অনুযায়ী নবীগঞ্জ উপজেলার সরকারি কুর্শি মৎস্য খামার  থেকে ৩৩৪ কেজি পোনা কিনে অবমুক্ত করা হয়েছে। অবমুক্ত করার প্রত্যেকটি স্থানের ছবি ও ভিডিও রয়েছে। সংসদ সদস্যকে দিয়ে উদ্বোধনের পর প্রত্যেক স্থানে পোনা অবমুক্ত করার সময় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানসহ সহকারী কমিশনার (ভূমি) রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। করাঙ্গী হাওরে ২০৫ কেজি পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। দুর্নীতির প্রশ্নই ওঠে না।’

সংসদ সদস্য শাহনওয়াজ মিলাদ গাজী দাবি করেন, বাহুবলে পোনা অবমুক্ত করার বিষয়ে কোনও ধরনের দুর্নীতি হয়েছে বলে আমি মনে করি না। কেননা, আমি নিজে বেশ কয়েকটি স্থানে জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পোনা অবমুক্ত করেছি। উপজেলা চেয়ারম্যান অনুষ্ঠানে আসেননি, এটি তার ব্যক্তিগত বিষয়।

এদিকে উপজেলা প্রশাসনের একটি সূত্র দাবি করেছে পোনা কেনার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ খলিলুর রহমান মৎস্য অফিসার মিসবাহ উদ্দিন আফজালকে চেয়ারম্যানের নিজস্ব লোকের কাছ থেকে কেনার অনুরোধ করেন। কিন্তু, সেই অনুরোধ উপেক্ষা করে সরকারি খামার থেকে ১ লাখ টাকার পোনা কেনেন মৎস্য অফিসার। এ নিয়ে মূলত তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

এই অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি কোন খামার থেকে পোনা কিনবে এবং কোথায় কোথায় অবমুক্ত করবে; সেই তালিকা দেখতে চেয়েছি। আমার পছন্দের লোক থেকে কিনতে বলিনি। এটা মিথ্যা অভিযোগ।’

 

 

/এনআই/

লাইভ

টপ