গৃহকর্মীর গ্রামের বাড়িতে সপরিবারে মাশরাফি

Send
শাহরিয়ার মিল্টন, শেরপুর
প্রকাশিত : ২৩:৩৪, আগস্ট ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৫০, আগস্ট ২৪, ২০১৯

মাশরাফি বিন মোর্তজাসপরিবারে গৃহকর্মীর গ্রামের বাড়িতে বেড়িয়ে গেলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মোর্তজা। শুক্রবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে শেরপুর জেরার নালিতাবাড়ী উপজেলার যোগানিয়া ইউনিয়নের যোগানিয়া কাচারি মসজিদের কাছে তার গৃহকর্মী টুনির বাড়িতে আসেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’।

প্রথমদিকে গোপন থাকলেও নিভৃত পল্লীতে দুটি মাইক্রোবাসে ঢাকা থেকে মাশরাফির আসার খবর ছড়িয়ে পড়ে। লোকজনের ভিড় সামলাতে মাত্র আড়াই ঘণ্টা অবস্থানের পর তিনি শেরপুর ত্যাগ করেন।

খবর পেয়ে মাশরাফিকে শুভেচ্ছা জানাতে যোগানিয়ায় ছুটে যান নালিতাবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান মোকছেদুর রহমান লেবু। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও ওই বাড়িতে হাজির হন।

মোকছেদুর রহমান বলেন, ‘ভাবা যায়, বাসার কাজের মেয়ে ও সাবেক নিরাপত্তাকর্মীকে খুশি করতে, তাদের মুখে হাসি ফোটাতে তার মতো এমন একজন সেলিব্রেটি  এই গ্রামে সস্ত্রীক এসেছেন।’

উপজেলা চেয়ারম্যান জানান, ‘বাসার নিরাপত্তাকর্মীর কাজ থেকে টুনির বাবা আক্কাছ আলী বিদায় নিলেও তার পরিবারের প্রতি মাশরাফির রয়েছে দারুণ মমতা। তিনি আক্কাছ আলীকে চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছেন, তাদের মাথা গোঁজার জন্য গ্রামের বাড়িতে একটি সেমিপাকা ঘর বানিয়ে দিয়েছেন। সর্বোপরি তিনি টুনির ভবিষ্যতের দায়িত্ব নিয়েছেন। এখানে না এলে এসব কথা আমরা জানতামই না।’

শাহরিয়ার আমিন সিফাত নামের এক ছাত্র জানান, রাজধানীর মিরপুর এলাকায় একটি হাউজিং অ্যাপার্টমেন্টে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে চাকরির সময় মাশরাফি বিন মোর্তজার সঙ্গে পরিচয় হয় আক্কাছ আলীর। ওই অ্যাপার্টমেন্টের একটি ফ্ল্যাটে থাকেন মাশরাফি ও তার পরিবার। ওই পরিচয়সূত্রে প্রায় ৮ বছর আগে আক্কাছ আলীর মেয়ে টুনিকে তার বাসায় গৃহকর্মীর  কাজ দেন তিনি। বয়স আর শারীরিক অসুস্থতার কারণে আক্কাছ আলী সেখান থেকে বিদায় নিলেও মাশরাফির বাসাতেই রয়ে যায় টুনি। দীর্ঘ ৮ বছরে মাশরাফির স্ত্রী ও দুই সন্তানের সঙ্গে টুনির গড়ে উঠেছে নিবিড় সম্পর্ক। তারা এখন টুনিকে তাদেরই একজন মনে করেন।

স্থানীয়সূত্রে জানা গেছ, এবারের কোরবানির ঈদ মাশরাফির বাসাতে কাটলেও পরে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসার ইচ্ছে ছিল টুনির। সেই ইচ্ছে পূরণে কেবল টুনি নয়, নিজের গোটা পরিবার নিয়েই টুনিদের গ্রামের বাড়িতে হঠাৎ করেই মাশরাফি চলে আসেন। মাশরাফির আসার বিষয়টি টুনির বাবা-মা জানলেও তারা কাউকেই কিছু জানাননি। কিন্তু, যোগানিয়া কাচারি মসজিদ সংলগ্ন টুনিদের বাড়িতে পৌঁছানোর পর মাশরাফি ঘুরে-ফিরে চারপাশ এক পলক দেখে নাস্তা পর্ব শুরু করতেই এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হয়। ফলে ভক্ত-সমর্থক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ মুহূর্তেই ওই বাড়িতে ভিড় করতে থাকেন। তারা মাশরাফির সঙ্গে সেলফি তুলতে ও তার অটোগ্রাফ নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

এদিকে, জনতার ভিড় এবং গরমের কারণে দ্রুতই পরিবারের সবাইকে নিয়ে গাড়িতে উঠতে হয় মাশরাফিকে। ফলে শেরপুরে আসার প্রায় আড়াই ঘণ্টার মাথায়ই বিদায় নেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ খ্যাত মাশরাফি বিন মোর্তজা।

 

/এনআই/

লাইভ

টপ