নামজারি না করায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ, লক্ষ্মীপুরের ডিসির বিরুদ্ধে তদন্ত

Send
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩:২২, আগস্ট ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:২৯, আগস্ট ২৫, ২০১৯

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরমনসা গ্রামে এ এইচ এগ্রো পার্ক লিমিটেডের ২ একর সাড়ে পঞ্চান্ন শতাংশ জমির নামজারি ও জমা খারিজের জন্য ৬ বছর আগে আবেদন করা হয়। কিন্তু, ৫০ হাজার টাকা ঘুষ না দেওয়ায় এটি আটকে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। তার অভিযোগ দ্বিতীয়বার আবেদন করেও নামজারি হয়নি। বরং এখনকার ডিসি তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছেন। এ নিয়ে তিনি গত ৩ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।

কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনে হয়রানির ঘটনায় মনিরুল ইসলাম জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক, এনডিসি, আরডিসি, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারীর বিরুদ্ধে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালককে তদন্তের জন্য বলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (২১ আগস্ট) স্থানীয় সরকারের চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব দীপক চক্রবর্তী লক্ষ্মীপুরে তদন্তে আসেন। তিনি সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অভিযোগকারী ও জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে লিখিত বক্তব্য নেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামে এ এইচ এগ্রো পার্ক লিমিটেড নামের একটি কৃষিভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১২ সালের ২৯ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটির ২ একর সাড়ে পঞ্চান্ন শতাংশ জমির নামজারি ও জমা খারিজ করার জন্য আবেদন করা হয়। তখন জেলা প্রশাসকের তহবিলের জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন উচ্চমান সহকারী আবদুল জলিল। নামজারি ও জমা খারিজের বিষয়টি নিয়ে আরডিসি, এনডিসি, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে নিয়মিত যোগাযোগ করতে থাকেন কোম্পানির প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম। কিন্তু, ছয় বছরেও তা হয়নি। ২০১৯ সালের ২১ মার্চ নামজারি ও জমা খারিজের জন্য পুনরায় জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পালের কাছে আবেদন করা হয়। এবারও নামজারি না হওয়ার কারণ জানতে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম মোবাইলফোনে কল করলে তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন ডিসি। 

এদিকে গত ২১ আগস্ট তদন্তের খবর পেয়ে সংবাদকর্মীরা দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে ডিসির কার্যালয়ে জড়ো হন। এসময় ডিসি অঞ্জন চন্দ্র পাল উপস্থিত সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমি জেলার সর্বোচ্চ কর্মকর্তা। আমার বিরুদ্ধে কেন নিউজ করবেন? আপনারা আমার বিরুদ্ধে নিউজ করতে পারবেন না। আমার বিরুদ্ধে তদন্ত হলে সেটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তদন্ত এলেই যে আপনাদের নিউজ করতে হবে, তার কোনও মানে নেই।’ ডিসি আরও বলেন, ‘আপনারা কেউ ভুক্তভোগীর বক্তব্য নিতে পারবেন না। ওই ব্যক্তি চলে গেলে আপনারা আমার কক্ষ থেকে বের হবেন। উনি চলে গেলে আমি আপনাদের বক্তব্য দেবো। বাইরেও আপনারা অভিযোগকারীর বক্তব্য নিতে পারবেন না। যদি বক্তব্য নিতে হয় অভিযোগকারী প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানাবে। আর আমার কার্যালয় এলাকায় আপনারা তার বক্তব্য নিতে পারবেন না। আর আমি চাইছি না আপনারা তার বক্তব্য নেন। আপনারা আমার বিরুদ্ধে নিউজ করবেন, এটাও আমরা চাইছি না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল দাবি করেন, ‘সাংবাদিকদের সঙ্গে তার এ ধরনের কোনও ঘটনাই ঘটেনি।’

এম এইচ এগ্রো পার্ক লিমিটেডের প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম, ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে তিনি প্রথম জমির জমা খারিজের জন্য আবেদন করেন। আবেদনের পরে জেলা প্রশাসকের উচ্চমান সহকারী আব্দুল জলিল ডিসির ফান্ডের জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। সিরাজুল ইসলাম এ বিষয়ে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জানালে, তিনি ঘুষ দিতে নিষেধ করেন।

ডিসি অফিসের তহবিলের জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করা ডিসি অফিসের উচ্চমান সহকারী (অবসরে গেছেন) আবদুল জলিলের মোবাইলফোনে কয়েকবার কল করা হলে তার মোবাইলফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

এম এইচ এগ্রো পার্ক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘‘দ্বিতীয়বার নামজারির আবেদনের পর গত ২ এপ্রিল মোবাইলফোনে যোগাযোগ করলে জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, ‘আপনি কে আমি জানি না, আমি দেড় বছর লক্ষ্মীপুরে ডিসিগিরি করি, আপনি খোঁজ নিয়ে দেখেন। আমি লক্ষ্মীপুরের নেতা-মন্ত্রী সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলি। প্রয়াজেনে আপনি আমার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন।’’

এম এইচ এগ্রো পার্ক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল ইসলামের অভিযোগের বিষয়ে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, ‘মনিরুল ইসলাম উনার সঙ্গে গত ৫ মার্চ যোগযোগ করলে তিনি নতুন করে আবেদন করতে বলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ মার্চ নামজারির জন্য আবেদন করে তারা। পরে গত ১ এপ্রিল মনিরুল ইসলাম আমার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগও করেন। ২ এপ্রিল আমাকে ফোন দিলে আমি বলি, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। উনার সঙ্গে আমার খারাপ ব্যবহারের কোনও কারণই নাই। উনার অভিযোগ ভিত্তিহীন।’



 

/এনআই/

লাইভ

টপ