রুপির দরপতন, আমদানিতে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা

Send
হিলি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৯:৩৫, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৫০, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯

ভারত থেকে পণ্যবোঝাই ট্রাক আসছেডলারের বিপরীতে রুপির দরপতন ও টাকার মান বাড়ায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিতে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন আমদানিকারকরা। রুপির দরপতনের কারণে খানিকটা কম দামে পণ্য কিনতে ও আমদানি করতে পারছেন তারা। এতে দেশের বাজারে আমদানি করা পণ্যের দাম কমতে পারে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক মামুনুর রশীদ লেবু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা আগে ভারত থেকে যেসব পণ্য আমদানি করতাম এবং তার বিপরীতে এলসি খুলতাম তখন ডলারের রেট কম ছিল। আগে এক ডলারের বিপরীতে ৬৮.৫০-৬৯ রুপি পেতাম। এখন পাচ্ছি ৭১.৫০-৭২ রুপির মতো।  সামনের দিনে এ অবস্থা থাকলে আরও কম দামে দেশের বাজারে পণ্য কেনাবেচা করতে পারবো।’

আরেক আমদানিকারক রাজিব দত্ত বলেন,‘বর্তমানে ডলার রেট ভালো হওয়ায় বাটাও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। যার কারণে পাথর আমদানিতে পড়তা হচ্ছে। ফলে পাথরের দামও কমেছে। বর্তমানে বাংলাদেশি টাকা রুপিতে ভাঙালে বাটা রেট পাওয়া যাচ্ছে ৮৪.৫০-৮৫ রুপির মতো। এ কারণে বর্তমানে যে দামে ভারত থেকে পাথর কেনা হচ্ছে তাতে করে পড়তা হওয়ায় পাথরের দাম কমেছে। তবে সেখানে আবার যদি বাটা কমে যায় তাহলে পাথরের দাম আবারও কিছুটা বাড়তে পারে।’

ভারত থেকে পণ্যবোঝাই ট্রাক আসছেহিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে ডলারের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এর কোনও পরিবর্তন হয়নি এক কথায় যে বাংলাদেশি টাকার মানটা বাড়ছে। আমরা যেহেতু ভারত থেকে পণ্য আমদানি করে থাকি সেখানে দেখা গেছে ডলারের বিপরীতে রুপির দরপতন হয়েছে। এর কারণে আমরা যে পণ্য আমদানি করতেছি তা প্রায় প্রতি কেজি দু থেকে আড়াই টাকা কমে কিনতে পারতেছি এর ফলে আমাদের আমদানিকারকরা লাভবান হচ্ছেন ও ব্যবসায় উৎসাহিত হচ্ছেন। এর একটাই মাত্র কারণ হচ্ছে টাকার মান বেড়েছে। ভারতে পাথরের দাম ছিল ১৮০০ থেকে ১৮৫০ টাকা। রুপির দরপতনের কারণে ও টাকা শক্তিশালি হওয়ায় এখন সেটা কমে ১৫০০ থেকে ১৫৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। পেঁয়াজের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। কিন্তু ভারতের বাজারেই দাম বৃদ্ধি হওয়ায় সেই সুযোগটা আমরা পাচ্ছি না।’

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। বিশেষ করে পাথরের আমদানির পরিমাণ বেশি। আগে বন্দর দিয়ে ১২০-১৫০ ট্রাক পেঁয়াজ, পাথরসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হতো। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ১৭০-১৮০ ট্রাকে দাঁড়িয়েছে। কোনোদিন ২০০ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হচ্ছে। যার মধ্যে শুধু পাথর ৮০-১০০ ট্রাক প্রবেশ করছে। এতে করে বন্দর থেকে রাজস্ব আহরণ যেমন বেড়েছে তেমনি বন্দর কর্তৃপক্ষ বাড়তি আয় করছে।

 

/এসটি/

লাইভ

টপ