মৃত ব্যক্তির টাকা নিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে

Send
যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০:৫৫, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৯, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯

যশোর জেনারেল হাসপাতালমৃত ব্যক্তির পকেটে পাওয়া টাকার একটি অংশ নিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইন্টার্ন চিকিৎসক রবি ইসলামের বিরুদ্ধে। তবে ওই ডাক্তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতাল সূত্রে ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে যশোর সদরের চুড়ামনকাটি এলাকার জাকির হোসেন (৩৮) জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে পেয়িং বেড খালি আছে কিনা দেখতে যান। ওই সময় হঠাৎ তিনি সেখানে পড়ে গিয়ে মারা যান। তখন ইন্টার্ন ডাক্তার রবি ইসলাম,অন্য রোগী ও তাদের স্বজন,নার্স এবং আয়ারা সেখানে ছিলেন। ঠিকানা সংগ্রহ করতে ইন্টার্ন ডাক্তার রবি তাদের অনুরোধ করেন মৃতের পকেট কাগজপত্র আছে কিনা দেখতে। পকেট থেকে কিছু কাগজপত্র,একটি মোবাইল ফোন সেট এবং নগদ ৫ হাজার ৩৫ টাকা পান তারা। এরপর টাকাগুলো ইন্টার্ন ডাক্তারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা হাসপাতালে এলে তাদের হাতে নার্স হাসি খাতুন কাগজপত্রসহ অন্যান্য জিনিসের সঙ্গে এক হাজার ৮৩৫ টাকা তুলে দিতে গেলে বিপত্তি ঘটে। তখন অন্য রোগীর স্বজনরা তাদের জানান,জাকিরের পকেটে ৫ হাজার টাকার বেশি ছিল। পরে নার্স সেই টাকা ডাক্তার রবিকে ফেরত দিয়ে আসেন। ডাক্তার রবি ওই টাকা নিহতের বড়ভাই জিল্লুর রহমানকে দিয়ে দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নার্স হাসি বলেন, ‘ডাক্তার সাহেব আমাকে যে টাকা দিয়েছিলেন সেই টাকা আমি একটি কাগজে নোট করে রাখি। পরে তার স্বজনদের দিতে গেলে জানা যায়, টাকার পরিমাণ ঠিক নেই। বিপত্তি এড়াতে সেই টাকা ডাক্তারের কাছে ফেরত দিয়ে আসি।’

জাকিরের পকেট থেকে টাকা বের করার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজন মিঠু। তিনি জানান,জাকিরের পকেটে ৫ হাজার ৩৫ টাকা ছিল। যার মধ্যে এক হাজার টাকার চারটি, ৫০০ টাকার একটি, ১০০ টাকার পাঁচটি, একটি ২০ টাকা, একটি ১০ টাকার ও ৫ টাকার একটি কয়েন ছিল।

এ বিষয়ে ইন্টার্ন ডাক্তার বলেন, ‘টাকা গুনে দেখিনি, যা ছিল সেটাই দেওয়া হয়েছে। ডাক্তার হয়ে একজন মৃত ব্যক্তির টাকা নিয়ে নেওয়ার মতো কাজ করা কীভাবে সম্ভব?’

জাকিরের বড়ভাই জিল্লুর রহমান বলেন, ‘ভাইয়েরপকেটে কত টাকা ছিল আমার জানা নেই। ডাক্তার যদি এমন কিছু করে থাকেন, তাহলে কী আর বলবো।’

এ প্রসঙ্গে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু বলেন, ‘যদি এমন কিছু হয়ে থাকে,নিশ্চয় সেটি অপরাধ। বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো। সত্যতা মিললে তা যশোর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষকে জানানো হবে।’

 

 

 

 

/এসটি/

লাইভ

টপ