হিলিতে রেলওয়ের খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে প্রভাবশালী মহল

হিলি প্রতিনিধি
১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:৪২ আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:৫৩

রেলওয়ের খালে বাধ দিয়ে মাছ ছাষ করছে এলাকার প্রভাবশালী মহল

হিলিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে রেললাইন সংলগ্ন খালে অবৈধভাবে বেড়া ও বাঁধ দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল মাছ চাষ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বছরের পর বছর তারা এ খালে মাছ চাষ করছে। অন্যদিকে বাঁধ দেওয়ার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই আশপাশের বাড়িতে ও ফসলের ক্ষেতে পানি ঢুকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, হিলি সীমান্তের ফকিরপাড়া এলাকা থেকে শুরু করে স্টেশন ডাঙ্গাপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে খাল রয়েছে। খালটি ৪ থেকে ৫ গজ প্রস্থ। খালটি কয়েকটি ভাগে বিভক্ত। সাতকুড়ি, বড়চড়া ও স্টেশন ডাঙ্গাপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে খালে বেড়া ও বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছেন প্রভাবশালীরা। স্থানীয় লোকজন প্রভাবশালীদের নাম বলতে নারাজ। তবে এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ডাঙ্গাপড়ার ফরিদুল এবং কামরান নামে দুই ব্যক্তি একটি বড় খালে বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করছেন। ফরিদুল ও কামরান সরকার দলীয় স্থানীয় নেতা হিসেবে পরিচিত।

খালের বিভিন্ন অংশে বাধ দিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে

স্থানীয় নাজির হোসেন ও সাখাওয়াত হোসেন বলেন,‘আগে এই খাল সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ছিল। আশপাশের গরিব মানুষ বরশি বা জাল দিয়ে খাল থেকে মাছ মেরে খাতো। কেউ কোনও বাধা দিতো না। বাব-দাদার আমল থেকেই আশপাশের গাঁয়ের লোকজনকে মাছ মারতে দেখেছি। পাঁচ-সাত বছর ধরে শোনা যাচ্ছে এটা লিজ নেওয়া হয়েছে। খালটা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে সেখানে এলাকার প্রভাবশালীরা মাছ চাষ করছে। এখন আর কেউ খালে নামতে পারে না। আগে কালবাউস, শোল, টেংরা পুটি, মাগুরসহ দেশীয় পনের থেকে বিশ প্রজাতির মাছ পাওয়া যেতো।

রফিকুল ইসলাম ও বেলাল হোসেন নামে স্থানীয় দুই ব্যক্তি জানান, রেললাইনের পাশে খালের বিভিন্ন স্থানে প্রভাবশালী মহল বেড়া ও বাঁধ দিয়ে রেখেছে। এর ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই আশপাশের বাড়িঘরসহ ও ফসলের ক্ষেতে পানি ঢুকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। যে কারণে একদিকে ফসলের ক্ষতি অন্যদিকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

খালে বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে

 লিজের দাবিদার কামরান হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আমি রেলওয়ের কাছ থেকে ১৫ শতকের একটি খাল ইজারা নিয়ে সেখানে বৈধভাবে মাছ চাষ করছি। ইজারার শর্তে খালে বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করার কথা বলা হয়েছে।’  

সরেজমিন দেখা গেছে কমরান যে খালে মাছ চাষ করছেন সেটি এক বিঘার ওপরে। তার ইজারার মেয়াদও শেষ হয়েছে দুই বছর আগে। তার দেখানো কাগজেও খালে বেড়া দিয়ে মাছ চাষের কোনও শর্ত দেওয়া নেই।

অপরদিকে প্রায় অর্ধ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে উপরে একটি খালে বেড়া দিয়ে সেখানে মাছ চাষ করছেন ফরিদুল নামে আরেক একজন। এ বিষয়ে ফরিদুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি ইজারার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে বলে জানান।

রেলওয়ের লালমনিরহাটের এস্টেট কর্মকর্তা রেজওয়ানুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ৫ বছর আগে রেলের খালগুলো ইজারা দেওয়া হয়েছিল। তবে সেগুলোর মেয়াদ আছে কি না তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব না। তবে খালে বেড়া দিয়ে মাছ চাষের কোনও নিয়ম নেই বলে তিনি জানান।

হাকিমপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা সিদ্দিকা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘রেললাইনের পাশের উন্মুক্ত জলাশয়ে অবৈধভাবে বেড়া দিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এটি আসলে আইনের পরিপন্থি ও অবৈধ। এবিষয়ে  আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি সরেজমিন দেখে এসেছি সড়কের পাশে জলাশয়ের ৫/৭টি স্থানে বেড়া দেওয়া রয়েছে। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

  

/জেবি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলার বিচার দাবি গণসংহতির
রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলার বিচার দাবি গণসংহতির
পাকিস্তান আমলেও হাসপাতালের ওপর এমন বর্বরতার কথা মনে পড়ে না: মান্না
পাকিস্তান আমলেও হাসপাতালের ওপর এমন বর্বরতার কথা মনে পড়ে না: মান্না
সোনালী ব্যাংকের বরখাস্ত ৫ কর্মকর্তার কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ
সোনালী ব্যাংকের বরখাস্ত ৫ কর্মকর্তার কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ
হার্ট অ্যাটাক কেন হয়? হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখার সহজ উপায়
হার্ট অ্যাটাক কেন হয়? হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখার সহজ উপায়
সর্বাধিক পঠিত
প্রথম হলেন শ্রাবন্তী, বললেন মায়ের জন্যই এতদূর আসতে পেরেছি
প্রথম হলেন শ্রাবন্তী, বললেন মায়ের জন্যই এতদূর আসতে পেরেছি
এনসিপিতে নতুন পরিচয়ে সারজিস আলম
এনসিপিতে নতুন পরিচয়ে সারজিস আলম
বাংলাদেশে ইউরেনিয়াম আনতে আকাশসীমার অনুমতি কেন দিচ্ছে না, জানালো পাকিস্তান
বাংলাদেশে ইউরেনিয়াম আনতে আকাশসীমার অনুমতি কেন দিচ্ছে না, জানালো পাকিস্তান
চাঁদপুর-বরিশালের ইলিশের নামে কোথাকার মাছ খাচ্ছেন জানেন?
চাঁদপুর-বরিশালের ইলিশের নামে কোথাকার মাছ খাচ্ছেন জানেন?
পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সুখবর আসছে
পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সুখবর আসছে