পরিত্যক্ত বিএস কোয়ার্টার এখন চোর-ছিনতাইকারীদের ঘাঁটি

Send
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১:৫১, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:২৫, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯

পরিত্যক্ত বিএস কোয়ার্টার বগুড়ার সোনাতলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএস (উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের) কোয়ার্টারগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় সেগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পরিত্যক্ত এসব কোয়ার্টার এখন মাদকসেবী,জুয়াড়ি,চোর ও ছিনতাইকারীদের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে কোয়ার্টারগুলো সংস্কারের মাধ্যমে বসবাসের উপযোগী করে বরাদ্দ দিতে সংশ্লিষ্ট সবার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সোনাতলা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে বিএস কোয়ার্টার নির্মাণ করে। গত বছর এসব কোয়ার্টারে কেউ থাকে না। বর্তমানে এসব কোয়ার্টারে সন্ধ্যার পর মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের আস্তানায় পরিণত হয়। এ কারণে অপরাধীদের আনাগোনা থাকায় এলাকায় রাতে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়েছে।

উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের ভেলুরপাড়া চারমাথা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এনায়েত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে বিএস কোয়ার্টার এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় তিন একর জমিতে চারটি কোয়ার্টার রয়েছে। পাশে আছে একটি বড় পুকুর। দেখার কেউ না থাকায় স্থানীয়রা সরকারি ওই পুকুর থেকে অবাধে মাটি তুলে করে নিয়ে যাচ্ছেন। বালুয়াহাটে বিএস কোয়ার্টার এলাকায় মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের আনাগোনা রয়েছে।

পাকুল্যা এলাকার জনগণ জানিয়েছেন, বিএস কোয়ার্টারে কেউ বসবাস না করায় সেগুলোতে বিভিন্ন আগাছ জন্মেছে। দুর্বৃত্তরা দিনে সেখানে নেশা ও জুয়া খেলে আর রাতে আশপাশে চুরি, ছিনতাই করে থাকে। পাকুল্যা বাজার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে যমুনা নদীর চর। এসব দুর্বৃত্তরা নেশা ও জুয়ার টাকার জন্য মাঝেমধ্যে রাতে চরবাসীদের ওপর হামলা করে। তাদের সহায়-সম্বল ছিনিয়ে আনা হয়।

তেকানীচুকাইনগর কাচারিবাজার এলাকায় গিয়ে বিএস কোয়ার্টারের ভেতরে ও বাইরে জুয়াড়িদের আড্ডা দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানান,একসময় কৃষি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএসরা পরিবার-পরিজন নিয়ে ওইসব কোয়ার্টার বসবাস করতেন। তারা স্বল্প সময়ে কৃষকদের যেকোনও প্রয়োজনীয় সেবা দিতেন।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদ আহম্মেদ জানান,ওই বিএস কোয়ার্টারগুলো বসবাসের অনুপোযোগী হওয়ায় কেউ থাকতে চায় না। পাশাপাশি এ আধুনিক যুগে সবাই গ্রাম ছেড়ে শহরমুখী হয়েছেন। সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য বেশিরভাগ কর্মকর্তা শহরে থাকেন। তাই তারা ওইসব কোয়ার্টারে বসবাস করতে আগ্রহী নন।

তিনি আরও জানান, কোয়ার্টারগুলো সংস্কার করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লেখা হয়েছে। এছাড়া গাবতলীসহ কয়েকটি উপজেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএসদের জন্য কোয়ার্টার নির্মাণ করা হচ্ছে। ওই প্রকল্পের আওতায় সোনাতলাতেও বিএসদের জন্য আধুনিক কোয়ার্টার নির্মাণ হবে।

 

 

/এসটি/

লাইভ

টপ