মুক্তিপণের দাবিতে সুন্দরবন থেকে ১৪ জেলে অপহরণ

Send
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৩:২২, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৩৬, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯

অপহরণমুক্তিপণের দাবিতে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া ১৪ জন জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যু আমিনুর বাহিনীর সদস্যরা। গত তিন দিনে পশ্চিম সুন্দরবনের কলাগাছি, দোবেকী ও কোবাদক এলাকা থেকে এসব জেলেকে অপহরণ করা হয়।  

অপহৃত জেলেদের মধ্যে রাজ্জাক ওরফে রাজু, এমপি সজল, আবু নাসির, আনারুল, হেলালুজ্জামান ও শাহা আলমের নাম জানা গেছে। বাকিদের নাম পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ফিরে আসা জেলেদের দাবি, আরও অনন্ত আট জেলেকে অপহৃতদের সঙ্গে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে গেছে বনদস্যুরা।  

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জেলেসহ জিম্মি জেলেদের স্বজনরা জানান, বনদস্যু আমিনুর বাহিনীর পরিচয়ে সাত সদস্যের দলটি ৮ সেপ্টেম্বর দোবেকী এলাকা থেকে শাহআলম ও তার ভাইসহ তিনজনকে জিম্মি করে নিয়ে যায়। ৯ সেপ্টেম্বর কোবাদক এলাকা থেকে পাঁচ জেলেকে জিম্মি করে তারা। এসময় জিম্মি জেলেদের দুই সহযোগীকে বনদস্যুরা মারধর করে বাড়িতে ফেরার সুযোগ দেয়। দ্রুত তারা জিম্মি জেলেদের জন্য দাবি করা টাকা পরিশোধের জন্য। 

এসময় বনদস্যু দলটি ০১৯৫৩৭২৫৬৫০ নম্বরে যোগাযোগের কথা বলে ওই দুই জেলেকে ছেড়ে দেয় বলেও ফিরে আসা জেলেরো জানিয়েছেন। 

আরেকটি সূত্র জানায়, ১০ সেপ্টেম্বর সকালে বুড়ি গোয়ালীনি স্টেশন থেকে পাস নিয়ে বনে প্রবেশের পরপরই একই বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে সজলসহ ছয় জেলেকে অপহরণ করা হয়। নির্দিষ্ট নম্বর দিয়ে ফোন করে পরবর্তীতে মুক্তিপণের টাকা কোথায় কখন কীভাবে পৌঁছাতে হবে তাও জানিয়ে দেয় তারা।  

কয়েকজন জেলের দাবি, সজলদের কিছু সময় আগেই নীলডুমুর গ্রামের আব্দুল হাকিমসহ তার কয়েক ভাইয়ের পাঁচটি নৌকা পাল তুলে সুন্দরবনের ভেতরে প্রবেশ করলেও বনদস্যুরা তাদের কিছু বলেনি। তবে তার কিছুক্ষণ বাদেই সজলদের কয়েকটি নৌকা একই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় বনদস্যুরা নৌকাগুলো আটক করে নৌকা ও বহর পিছু একজন করে মোট ছয়জনকে তুলে নেয়।  

এ ব্যাপারে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল হুদা জানান, জেলে অপহরণের বিষয়ে কেউ থানায় কোনও অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এসটি/

লাইভ

টপ