সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর থানায় বিয়ে: রবিবার প্রতিবেদন জমা দেবে তদন্ত কমিটি

Send
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৩:০৮, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৪৫, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯




গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও থানায় বিয়ে দেওয়ার ঘটনার তদন্ত করছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশে গঠিত কমিটিপাবনায় গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও থানায় ডেকে নিয়ে অভিযুক্ত ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার ঘটনায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশে গঠিত কমিটি রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রতিবেদন জমা দেবে। শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কমিটির সদস্যরা টানা তিন ঘণ্টা তদন্ত কাজ পরিচালনা করেন। তারা ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে পাবনার সদর উপজেলার সাহাপুর যশোদল গ্রামে যান। সেখানে ভুক্তভোগী নারী, তার পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে তারা কথা বলেন এবং সদর থানা পরিদর্শন করেন।

এদিকে অপকর্মে জড়িয়ে পড়ায় পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ওরফে ঘন্টুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ নেওয়াজকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. একেএম আবু জাফর ও পাবনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবনে মিজান।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহেদ নেওয়াজ বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বেশ লম্বা সময় নিয়ে ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টদের কথা শুনেছি। এছাড়া আমরা পাবনা সদর থানাও পরিদর্শন করেছি। সেখান থেকেও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।

তিনি জানান তদন্তের কাজ শেষ পর্যায়ে। তবে তদন্তে কী উঠে এসেছে সে বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

কমিটির সদস্য সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবনে মিজান বলেন, ধর্ষণ মামলা দায়েরের পর মামলার অভিযুক্ত পাঁচ আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ইতোমধ্যে নির্যাতিতা নারীর ডাক্তারি পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশি তদন্ত হলেও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশে গঠিত কমিটির তদন্ত চলছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বেধে দেওয়া সময় রবিবার শেষ হবে। জেলা প্রশাসকের কাছে আমরা তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করবো। তিনি তদন্ত প্রতিবেদনটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে উপস্থাপন করবেন।

এবনে মিজান বলেন, থানার ভেতরে ধর্ষিতার সঙ্গে ধর্ষকের বিয়ের অভিযোগটি প্রমাণ হওয়ায় ইতোমধ্যেই পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবাইদুল হককে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও উপ-পরিদর্শক একরামুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, ধর্ষণের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় দলীয় তদন্ত শেষে অন্যতম অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম ঘন্টুকে পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

পাবনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাসান শাহীন বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কারও ব্যক্তিগত কোনও দায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেবে না। কারও অভিযোগের বিপরীতে কোনও ধরণের নমনীয়তা বা সহানুভূতি দেখানোর প্রশ্নই আসে না।

প্রসঙ্গত, তিন সন্তানের জননী ওই নারীর বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের যশোদল গ্রামে। তার অভিযোগ, প্রতিবেশী রাসেল আহমেদ এক সহযোগীসহ তাকে তার বাড়িতে ধর্ষণ করে। পরে তাকে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিসে নিয়ে তিনদিন আটকে রেখে সেখানেও চার-পাঁচ জন তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। বিষয়টি ওই নারী বাড়ি ফিরে স্বজনদের জানালে গত ৫ সেপ্টেম্বর তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ওই গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এদিকে, পুলিশ রাসেলকে প্রথমে আটক করে। ওই নারীর স্বামী থাকা সত্ত্বেও পরে অভিযুক্ত রাসেলের সঙ্গে থানায় তাকে বিয়ে দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ধর্ষণের মামলা না নিয়ে মীমাংসা করতে অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে গৃহবধূকে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সদর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন:
ধর্ষকের সঙ্গে থানায় বিয়ে: ওসি প্রত্যাহার, এসআই সাময়িক বরখাস্ত

‘ধর্ষকের’ সঙ্গে থানায় বিয়ে: ঘটনা তদন্তে এবার প্রশাসনিক কমিটি



/টিটি/

লাইভ

টপ