সৈয়দপুর বিমানবন্দরের জন্য অধিগ্রহণ জমির মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া শুরু

Send
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৫:৪৮, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৫৮, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯

সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার জন্য জমি অধিগ্রহণের শেষ ধাপের কাজ শুরু হয়েছে। শেষ ধাপে জমির মূল্য নির্ধারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক ও সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ করা হবে। সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিমল কুমার রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে  এসব কথা জানান।

এজন্য আগামী এক মাসের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ এলাকায় ৭ ধারায় নোটিশ জারি করে ব্যক্তি ও সরকারি মালিকানাধীন জমির মূল্য নির্ধারণ করা হবে। সৈয়দপুর ও পার্বতীপুর উপজেলা ভূমি দফতর নীলফামারী ও দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের তদারকিতে এ কাজটি করবে। নোটিশ জারির পর ভূমির বিষয়ে কারও কোনও আপত্তি থাকলে তা নিষ্পত্তি এবং জমি ও স্থাপনার মূল্য নির্ধারণ করা হবে। এর ভিত্তিতে ভূমি মালিকদের মূল্য পরিশোধ করা হবে।

সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করতে সৈয়দপুর ও পার্বতীপুর উপজেলার ৯১২ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। গত জুলাই মাসে ফিল্ড বুক তৈরির কাজও শেষ হয়েছে। অধিগ্রহণের জন্য চিহ্নিত ৯১২ একর জমির মধ্যে ব্যক্তিমালিকনাধীন ৫৩৫ একর এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ১৩২ একর জমি রয়েছে। এছাড়াও পার্বতীপুর উপজেলার বেলাইচন্ডি ইউনিয়নে ব্যক্তি মালিকানাধীন ৩১৭ একর জমি রয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে জমি অধিগ্রহণ কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে উচ্চ পর্যায়ের আন্তঃবিভাগীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দিনাজপুরের প্রশাসকসহ ৭টি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্নের জন্য করণীয় ঠিক করা হয়।

সভায় অধিগ্রহণ এলাকায় থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ক্যানেল, সড়ক ও জনপথ অধিদফতরকে সড়ক, ইসলামী ফাউন্ডেশনকে মসজিদ-মাদ্রাসার বিষয়ে করণীয় জানাতে বলা হয়েছে। এছাড়াও ভূমিহীন পরিবারদের পূনর্বাসন সম্পর্কে প্রস্তাবনা জমা দিতে বলা হয়েছে। সংস্থাগুলো প্রস্তাব জমা দিলে আন্তঃবিভাগীয় সভায় প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেষ ধাপের কাজ শুরু করবে নীলফামারী ও দিনাজপুর জেলা প্রশাসন। এরইমধ্যে ভূমিহীন পরিবারদের পূনর্বাসন এবং ইসলামী ফাউন্ডেশন মসজিদ-মাদ্রাসা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব নীলফামারী জেলা প্রশাসনে জমা দিয়েছে। অন্য সংস্থাগুলোও তাদের প্রস্তাব জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে।

সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিমল কুমার সরকার জানান, আন্তঃবিভাগীয় সভার সিদ্ধান্ত মতো প্রস্তাব জমা হলে এ নিয়ে আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ সভার পরই জমি অধিগ্রহণের শেষ ধাপের কাজ সম্পন্নের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এরইমধ্যে মাঠ পর্যায়ের কাজ শেষ করার জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ কাজের আওতায় ৭ ধারা নোটিশ জারি, আপত্তির নিষ্পত্তি এবং জমি ও স্থাপনার মূল্য নির্ধারণ করা হবে। এর ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্তদের মূল্য পরিশোধ করা হবে। এ কাজ আগামী এক মাসের মধ্যে শেষ করা হবে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার ঘোষণা দেন। এ ঘোষণা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে বেসামরিক বিমান মন্ত্রণালয়। প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ নেপাল, ভূটান ও চীনের সঙ্গে উত্তরাঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতিসহ বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নসহ ভারত সরকারের তৃতীয় ঋণ চুক্তির অর্থে বাস্তবায়িত হবে। বিমানবন্দরটি ২০২০ সালে চালু করার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।

 

 

 

/জেবি/

লাইভ

টপ