হিলিতে কমেছে পেঁয়াজের দাম

Send
হিলি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৬:৪২, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০৬, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯




পেঁয়াজের আড়ৎ (ছবি সংগৃহীত)হঠাৎ করেই ভারতে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানিতে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের। তবে বাড়তি খরচ হলেও কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন আমদানিকারকরা। রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) যেখানে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৫২ টাকা থেকে ৫৫ টাকা কেজিদরে বিক্রি হয়েছে, সেখানে সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ৫ থেকে ৭ টাকা কমে ৪৫ থেকে ৪৭ টাকা কেজিদরে পেঁয়াজ বিক্রি করা হয়েছে।

এদিকে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আগের খোলা এলসি মূল্যে পেঁয়াজ রফতানি করছেন না ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। এর জন্য এলসি অ্যামেন্ডমেন্ট করে পুরনো এলসিতে টাকা বাড়াতে হয়েছে এবং নতুন এলসি করে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা শুরু হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, দাম বাড়ানোর আগে এক টন পেঁয়াজ আমদানিতে ২৫০-৩০০ ডলার খরচ হতো, সেখানে এখন ৮৫২ ডলার খরচ হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতিকেজি পেঁয়াজ কিনতে ব্যবসায়ীদের খরচ হচ্ছে ৭২-৭৩ টাকা। তবে সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) হিলি বন্দরে ব্যবসায়ীরা ৪৫ টাকা থেকে ৪৭ টাকা কেজিদরে পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, এ কারণে তারা মারাত্মকভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এলসি অ্যামেন্ডমেন্ট করে পুরনো এলসিতে ডলার বাড়ানোর ফলে এবং নতুন এলসি খোলায় ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। রবিবার বিকাল থেকে পেঁয়াজের আমদানি শুরু হয়। তবে শনিবার বন্দর দিয়ে পূর্বের টেন্ডারকৃত পেঁয়াজের মাত্র ১৩৫ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়। ডলার বাড়িয়ে দেওয়ায় রবিবার বন্দর দিয়ে ১৭টি ট্রাকে ৩৬৮ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে, আজও বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে।

পেঁয়াজের ট্রাকহিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক সাইফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আগে প্রতিটন পেঁয়াজ প্রকারভেদে ২৫০ থেকে শুরু করে ৩০০ মার্কিন ডলার মূল্যে আমদানি করা হতো। বন্যার কারণে পেঁয়াজের উৎপাদন ঘাটতিতে ভারতের বাজারে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে। এর ফলে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি রুখতে ও রফতানি নিরুৎসাহিত করতে শুক্রবার ভারত সরকার পেঁয়াজের রফতানি মূল্য বাড়িয়ে ৮৫২ ডলার নির্ধারণ করে, যা শনিবার থেকেই কার্যকর করা হয়। তবে শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকার কারণে এলসি অ্যামেন্ডমেন্ট করতে ও নতুনভাবে কোনও এলসি না করতে পারায় বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি করতে পারিনি। রবিবার ব্যাংক খোলার পর পুরনো এলসিতে ডলার বৃদ্ধি করে ও নতুন এলসি খুলে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করা হয়েছে। আমদানি বাড়ায় পেঁয়াজের দাম কমে এসেছে। শনিবার আমদানি বন্ধ থাকার কারণে যে পেঁয়াজ ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, তা কমে ৪৫ থেকে ৪৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাড়তি দামে পেঁয়াজ আমদানি করে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি হওয়ার ফলে আমরা ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, আগে যেখানে বন্দর দিয়ে ৪০-৫০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হতো, এখন সেখানে ১৫-২০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে।

আমদানিকারক সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা ব্যবসায়ীরা বর্তমানে ক্ষতির মধ্যে আছি। বর্তমানে আমাদের খরচ পড়ছে প্রতিকেজিতে ৭২ থেকে ৭৩ টাকা। এক্ষেত্রে সরকার যদি এলসি মার্জিন বা ব্যাংকে কিছু সুযোগ-সুবিধা দিতো তাহলে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হতো।

/টিটি/এমএমজে/

লাইভ

টপ