পুলিশের ধারণা পারিবারিক বিরোধ তিনজনকে হত্যার পর নিজের সন্তানকেও হত্যার চেষ্টা!

Send
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৫:৪২, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:০৫, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯

সিদ্ধিরগঞ্জের এই বাড়িতে তিনজনকে খুন করা হয়পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের বৌবাজার এলাকায় দুই সন্তানসহ মাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। নিহত নাজনীন বেগমের বোনজামাই আব্বাস উদ্দিনকেই খুনি বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সে তার নিজের মেয়েকেও হত্যার চেষ্টা করেছে। যদিও ঘটনার পর থেকে আব্বাস উদ্দিন পলাতক আছে। ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ নাজনীন বেগমের স্বামী সুমন মিয়া ও নাজনীনের বোনকে আটক করেছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার ইন্সপেক্টর সাজ্জাদ রোমান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। নাজনীন বেগম (২৮), তার দুই মেয়ে নুসরাত (৬) ও খাদিজা (২) এবং নাজনীনের ভাগ্নি শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়ে সুমাইয়াকে (১৫) উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে এবং গলাকেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ঘটনাস্থলেই মা ও দুই শিশু সন্তানের মৃত্যু হয়। সুমাইয়াকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।সিদ্ধিরগঞ্জের এই বাড়িতে তিনজনকে খুন করা হয়

দুপুর পৌনে ২টার দিকে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হারুন অর রশিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের জানান, ‘সম্পূর্ণ পারিবারিক কলহের জের ধরে সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। তিনজনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে, কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, নিহত নাজনীন বেগমের ভগ্নিপতি আব্বাস উদ্দিন এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।’

তিনি আরও জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকালে আব্বাস উদ্দিনের স্ত্রী রাগ করে সিদ্ধিরগঞ্জের সিআই খোলার আনোয়ার হোসেনের বাড়ির ছয় তলার ফ্ল্যাটে তার বোনের কাছে চলে আসে। খবর পেয়ে আব্বাস উদ্দিনও ওই ফ্ল্যাটে আসে। কিন্তু ততক্ষণে আব্বাস উদ্দিনের স্ত্রী তার কর্মস্থল একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চলে যায়। এ সময় নাজনীন বেগমের সঙ্গে আব্বাস উদ্দিনের কোনও একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে আব্বাস উদ্দিন ছুরিকাঘাত করে নাজনীন ও তার দুই মেয়ে এবং নিজের প্রতিবন্ধী মেয়ে সুমাইয়াকে হত্যার চেষ্টা করে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়। গুরুতর আহত সুমাইয়াকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সুমাইয়ার জবানবন্দি রেকর্ড করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নারায়ণগঞ্জের এসপি ও পুলিশের অন্য কর্মকর্তারা

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘খুনি হিসেবে যাকে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাকে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম কাজ করছে। যত দ্রুত সম্ভব তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচিত হবে।’

নিহত নাজনীনের শাশুড়ি লুৎফা বেগম হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘যারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে আমি তাদের ফাঁসি চাই।’মা ও দুই মেয়েকে হত্যার ঘটনাস্থলের পাশে এলাকাবাসীর ভিড়

লুৎফা বেগমের আরেক ছেলে ও নিহত দুই শিশুর চাচা মোহাম্মদ রাজন জানান, ‘আমার ভাতিজি প্রায় সময়ই ফোন দিয়ে বাসায় আসতে বলতো। এখন কে আমাকে ফোন দেবে, কে আমাকে চাচা বলে ডাকবে? অবুঝ দুটি শিশুসন্তানকে যারা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে আমি তাদের ফাঁসি চাই, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভাই বিয়ে করে গত ১০ বছর ধরে আলাদা ফ্ল্যাটে থাকছে। সে একটি পেট্রোল পাম্পে চাকরি করতো। যে কারণে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ কম ছিল।  কারা কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা জানি না। তবে শুনেছি আমার ভাবির বোনের জামাই সকালে বাসায় এসে হত্যা করেছে।’
ঘটনার সময় নাজনীনের স্বামী সুমন সানারপাড়ে একটি পেট্রোল পাম্পে তার কর্মস্থলে ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে পুলিশ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ও নাজনীনের বোনকে আটক করেছে।

পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে। সিআইডি’র ফরেনসিক বিভাগকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এসে আলামত সংগ্রহ করার পর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন- সিদ্ধিরগঞ্জে মা ও দুই শিশুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

/এফএস/এমএমজে/

লাইভ

টপ